মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
নদীভাঙন, দারিদ্র্য আর উন্নয়নবঞ্চনার দীর্ঘ কষ্ট বুকে নিয়ে এবার সংগঠিত কণ্ঠে নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতে মাঠে নেমেছেন চরাঞ্চলের মানুষ। স্বতন্ত্র চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে কুড়িগ্রামে পদযাত্রা, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়াস্থ সিংহ চত্বর থেকে শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের লাখো চরবাসী এখনও মৌলিক অধিকার ও উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত। প্রতি বছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে হাজারো পরিবারকে। অথচ চরাঞ্চলের উন্নয়নে নেই কোনো সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “চরাঞ্চল শুধু ভৌগোলিক বাস্তবতা নয়, এটি লাখো মানুষের জীবন-সংগ্রামের নাম। চরবাসীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এখন সময়ের দাবি। আমরা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, অধ্যক্ষ শাহ আলম, অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, ইমান আলী, রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সাবেক চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন, ইউসুফ হোসেন, অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা, ইয়াসিন আলী ও সাইফুল ইসলাম বাদলসহ অন্যরা।
পরে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বাজেট, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, নদীশাসন ও নদীতীর সংরক্ষণে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চরবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া চরাঞ্চলের নারী-পুরুষরা বলেন, উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হতে হলে চরবাসীর জন্য বিশেষ উদ্যোগের বিকল্প নেই। তারা দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি চরবাসীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।


















