মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় আবারও দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
রোববার (১০ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। পরে খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণও করেন ত্রাণমন্ত্রী।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন ও পরিচর্যা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সারাদেশে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ, পানি সংরক্ষণ, মাছ চাষ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে। তিনি জানান, চলতি বছরে সারাদেশে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে মোট ৭ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ বছরে ২০ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চল ও হাওড় এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব এলাকায় বজ্র আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে এবং সেখানে বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হবে, যাতে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল ও হাওড় এলাকায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় আরাজী পলাশবাড়ী মৌজার দাশেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ খাল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে খাল পুনঃখনন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ধাপে জেলার ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও রৌমারী উপজেলার মোট ৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম কুদরত এ খুদা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টিএম বেনজীর রহমান এবং হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে ত্রাণমন্ত্রী লালমনিরহাটে নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামে পৌঁছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান নালিয়ারদোলা এলাকা পরিদর্শন করেন।


















