বাংলা ভয়েস ডেস্ক :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্যারামিটার হবে জুলাই গণআন্দোলনে নিহত শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারা। গত ১৬ বছরে আমরা একটা স্বৈরাচার সিস্টেমকে চালু রাখতে সহযোগিতা করেছি, এ দায় আমাদের সকলের। যে যত বড় পদে আসীন ছিল তত বেশি।
আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, জুলাই আগস্ট বিপ্লবে নিজেদের কর্মকা-ের কারণে পুলিশ ইমেজ সংকটে রয়েছে। নিজেদের সুনামের সঙ্গে কাজ করে সেই ইমেজ ফিরিয়ে আনতে হবে। আন্দোলনে যারা রাজপথে শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যার বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশ চাইলে সবকিছু করা সম্ভব। তাদের প্রভাব মাঠপর্যায়ে সবচাইতে বেশি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিছুদিনের জন্য সহযোগিতার জন্য এসেছে, আবার চলে যাবে। পুরো বাংলাদেশে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য পুলিশ যে ভূমিকা পালন করতে পারে আর কেউ সেটা পারে না। যাদের কাছে প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি-তাদের কাছেই চাওয়াগুলো বেশি হয়। আমরা এখনো আপনাদের প্রতি আস্থা হারায়নি। আমরা আস্থাটা রাখতে চাই, পারব কিনা সেটা আপনাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের শহিদ পরিবার যারা রয়েছে-সেক্টর একটা জায়গা থেকে তাদের দায়িত্ব নেওয়াটা খুব কঠিন। আমরা তাও চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রত্যেক জেলা পর্যায়ে যদি, প্রত্যেক জেলায় যে সব শহিদ পরিবার রয়েছে, আহত যোদ্ধারা রয়েছে-জেলা প্রশাসন এবং পুলিশসহ অন্যান্য স্টেক হোল্ডাররা মিলে যদি তাদের দায়িত্ব আমরা ভাগ করে নিই, আমাদের জন্য তা সহজ হয়ে যায়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী শহিদ পরিবার থেকে একজন করে হলেও চাকরির ব্যবস্থা করি আমাদের দায়িত্বগুলো সহজ হয়ে যায়। আপনাদের অনুরোধ করব, আপনাদের কাজের মধ্য দিয়ে আপনারা তাদের পাশে থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের কথা দিতে চাই-জীবনের বিনিময়ে হলেও এই অভ্যুত্থানের স্পিরিট রক্ষা করার জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, এবারের যে অভুত্থান, এই অভুত্থানে আমাদের যে লড়াই এটা ৫ জুন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছিল, যখন ১৮ সালের সেই কোটা নিয়ে জারি করা যে পরিপত্রটা ছিল সেটাকে বাতিল করা হয়। তখন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এবং সায়েন্স লাইব্রেরিতে একটি বিক্ষোভ হয়। এরপর থেকে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দাঁড়িয়ে আছি। জুন ৫ থেকে শুরু করে অগাস্ট ৫ এই সময়টুকুতে এই রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোর যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, তারা তাদের জায়গা থেকে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে দায়িত্বটুকু পালনের যে কথা ছিল, তারা সেই দায়িত্ব পালন করেননি। করেছেন, একটা ফ্যাসিস্ট দল, একটা ফ্যাসিস্ট রেজিম আওয়ামী লীগের হুকুমমতো নিজের দায়িত্ব পালন-এটাই এই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দায়। যে বিগত ১৬ বছরে এ রকম একটা স্বৈরাচার সিস্টেমকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে দিয়েছি। যার হাতে আসলে যত এই পুরো রাষ্ট্রকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে যতবেশি পাওয়ার ছিল তার দায় ততবেশি।
সারজিস আলম বলেন, আমাদের এই অভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে স্পেশালি যখন আমাদের ভাই-বোনদের ওপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নৃশংস একটি হামলা চালায় এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রংপুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় যখন হত্যাযক্ষ শুরু হয়-তখনই খুনি শেখ হাসিনা তার যে ক্ষমতা যে ক্ষমতা জনগণের মাধ্যমে তার অর্জিত ছিল না। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সবচেয়ে মাঠপর্যারে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশ এই বাংলাদেশ পুলিশকে ব্যবহার করেছে।
বিগত ১৬ বছরে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছে। যারা শেখ হাসিনার দালাল ছিল তোষামোদকারী ছিল তারা বেঁচে গিয়েছে। আরেকটা বেচে যাওয়ার পদ্ধতি ছিল হয় আপনার নিষ্ক্রিয় দর্শক হতে হবে, নয় নিষ্ক্রিয় দাস হতে হবে। এর বাইরে যদি আপনি কিছু হওয়ার চিন্তা করেন তাহলে আপনাকে হয়রানি করার জন্য মামলা জেল-জুলুম, গুম খুন, হত্যা-যেভাবে যা কিছু করা যায় এ সব কিছু করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে অপব্যবহার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৮ টি শহীদ পরিবারের মাঝে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয় এ সময় জানানো হয় বিভাগে মোট ৭৪ টি শহীদ পরিবার রয়েছে বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে অনুদান দেওয়া হবে শুধু তাই নয় আগামীতে যে কোন সংকটে তাদের পাশে থাকবে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তৃতা করেন ফারাংশের নির্বাহী প্রধান মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ফিরোজ সরকার, কেএমপি কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার, জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার টিএম মোশারফ হোসেনসহ বিভাগীয় জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
















