মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে কুড়িগ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। শাপলা চত্বর থেকে দাদা মোড় এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েক দফা ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আওয়ামী নেতা, আন্দোলনকারী এবং পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলার পর এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উভয় দিক থেকে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ঘিরে ফেলে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতারা পালিয়ে গেলেও জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা কার্যালয়ে আটকা পড়ে যায়।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা দলীয় কার্যালয়ের দরজা ভেঙে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাফর আলী, সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মন্জু, পৌর মেয়র কাজিউল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল ইসলাম রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান বাবু, রেদওয়ানুল হক দুলাল, রুহুল আমিন দুলালসহ অন্যান্য নেতাদের পিটিয়ে আহত করে। পরে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা।
সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা, আন্দোলনকারী ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতদের কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে পরে গুরুতর আহত জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. জাফর আলী, সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মন্জু, পৌর চেয়ারম্যান কাজিউল ইসলামসহ উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল ইসলাম রতনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিনুর রহমান শিপন জানান, দুপুরের পর আহতরা হাসপাতালে আসতে শুরু করে। আহতরা রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষার্থী ও পুলিশ রয়েছে। গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
















