মোঃ ইব্রাহিম খলিল সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর কারফিউ শিথিল হলেও ক্রেতা সঙ্কটে ভূগছেন হোটেল, মোটেল,রেস্তোরাঁ মালিকরা। দেশের উত্তাল পরিস্থিতিতে এখন সর্বত্র মন্দা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে সাতক্ষীরায় বিভিন্ন হোটেল, মোটেল রেস্তোরাঁ ব্যবসায়।
ক্রেতা সঙ্কটের কারণে রেস্তোরাঁ ব্যবসা শতকরা বিশ ভাগে নেমে এসেছে। অনেকেই এখন চাইনিজ রেস্তোরাঁ বন্ধ রেখেছেন। যদিও সাতক্ষীরা জেলাতে সকাল ৬টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরই দোকান পাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতারা রেস্তোরামূখী হচ্ছেন খুব কম।
সাধারণত সন্ধ্যার পরই জমে চাইনিজ রেস্তোরাঁ গুলো। খাবার হোটেলগুলোতে কিছুটা লোকজন আসলেও সেগুলোর সংখ্যা অনেক কম। ক্রেতা সঙ্কটের কারণে যেসব হোটেলে এসি চালানো হতো, খরচ কমাতে সেগুলোতে দিনের অধিকাংশ সময় এসি বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এদিকে, বাইরে থেকে লোকজন কম আসায় আবাসিক হোটেল, মোটেল ব্যবসাতেও নেমেছে ধ্বস। সেখানেও শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগে নেমে এসেছে ব্যবসা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, হোটেল- মোটেল,রেস্তোরাঁ ব্যবসায় সাতক্ষীরাতে এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে যে, কর্মচারীদের বেতন দিতেও পারছেন না ঠিকমতো। এর ওপর আছে ভাড়া থেকে শুরু করে আনুসাঙ্গিক খরচ। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে অনেক ব্যবসায়ীদের।
শুক্রবার ২ আগষ্ট সরেজমিন সাতক্ষীরা শহর ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় থাকা সোনারগাঁ রেস্তোরা, পানসি, হোটেল কর্নার, রাজ হোটেল, ঠিকানা, সুন্দরবন সহ বিভিন্ন খাবার হোটেল খোলা থাকলেও প্রতিটি হোটেলের খাবারের টেবিলগুলো ছিল অনেকটায় ক্রেতা শুন্য। সোনারগাঁ হোটেলে খেতে আসা শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমি ম্যাসে থাকি। একটি কোম্পানিতে চাকরি করি তাই দুপুরে খেতে এসেছি। তবে এই হোটেলে আগে যে রকম ক্রেতা সমাগম এবং ভিড় দেখা যেতো তার তুলনায় আজ অনেকটাই ফাঁকা লাগছে।
সুন্দরবন হোটেলের মালিক আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনের কারণে কারফিউ শিথিল থাকায় সন্ধ্যার পর পরই হোটেল বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এ কারণে সন্ধ্যার পরে কোনো ব্যবসা হচ্ছে না। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সাতক্ষীরা শহর অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। যার প্রভাবে হোটেল রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। কারফিউয়ের আগে দিনে ৩০ হাজার টাকা ব্যবসা হলেও এখন হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা।
সাতক্ষীরা সোনারগাঁ চাইনিজ রেস্টুরেন্ট মালিক ইসরাফিল খাঁ বলেন, ব্যবসা বিশ ভাগেরও নিচে নেমে গেছে। সন্ধ্যার পরে কারফিউ চালু থাকায় মানুষ আতঙ্কে তেমন বের হচ্ছে না। ফলে চাইনিজ ব্যবসাও কমে গেছে। এ অবস্থায় রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের বেতনই ঠিকমতো দেয়া যাচ্ছে না। এর ওপর আছে ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ আনুসঙ্গিক নানা খরচ। অবস্থা এমন যে বন্ধ রাখলেই এর চেয়ে ভালো হয়। কিন্তু সেটিও করতে পারছি না। বন্ধ রাখলে আগামীতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
সাতক্ষীরা হোটেল উত্তরা আবাসিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুৎফর রহমান খাঁ বলেন, কারফিউয়ের কারণে সাতক্ষীরার বাইরে থেকে তেমন লোকজন আসছে না। ফলে আবাসিক হোটেল ব্যবসা প্রচণ্ড মন্দা দেখা দিয়েছে। এখন গড়ে ১০ জন অতিথিও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে খরচ চালানো এখন বেশ দায় হয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান (মিঠু) বলেন, কারফিউ শিথিল হলেও সাতক্ষীরার ব্যবসা-বাণিজ্যে তেমন গতি আসেনি। বিশেষ করে হোটেল, মোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায় নেমেছে ব্যপক ধ্বস। এখন গড়ে ২০ ভাগ ব্যবসাও হচ্ছে না।
তিনি বলেন, মূলত শিক্ষানগরী সাতক্ষীরা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এই শঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে বেশি। এর ওপর কারফিউ থাকায় মানুষ সন্ধ্যার পরে তেমন বের হচ্ছে না। যার কারণে ব্যবসায় ক্ষতি বাড়ছে।
















