মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ
সাতক্ষীরায় দইয়ের সরে টিস্যু পেপার ব্যবহার করে ভেজাল দই বিক্রির ঘটনায় এখন সর্বত্র আলোচনায় তুঙ্গে। বিভিন্ন প্রিন্ট পত্রিকা সহ একাধিক অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হয়। ফেসবুকে সংবাদটি শেয়ার করায় নেটিজেনরা সরব হয়ে ওঠে।
সেখানে একেকজন একেক রকম মন্তব্যও করেন। সাতক্ষীরা আমিনিয়া মার্কেট সংলগ্ন অরজিনাল সাগর সুইটসে্ টিস্যু পেপার দিয়ে সর তৈরি করে ভোক্তাদের কাছে ভেজাল দই বিক্রি করার খবরটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যা ইতিমধ্যে ভাইরালও হয়েছে।
ফেসবুকে কমেন্টকারী আক্তারুল ইসলাম বলেন, এটা সব সুইটসে্ এখন বিক্রি হচ্ছে এদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। মিলন সরকার বলেন, এটা আমাদের এনায়েতপুরেও চলে কিন্ত। আসিফ ইকবাল বলেন, শুধু সাগর সুইটস্ না ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারেও দেয়, সেদিন আমি নিয়ে দেখি সব টিস্যু পেপার। রাকিব হাবিব বলেন, আমার খাওয়ার সময় দাউট লাগে। এইচ, এম মুহিম বলেন, ছিঃ ছিঃ এখান থেকে আর জীবনেও দই কেনা যাবেনা। মামুনুর রশীদ বলেন, এরেস্ট করা হোক। সোহাগ, শহীদ ইসলাম, মান্নান খান সাতক্ষীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
প্রসঙ্গত, দই বাঙালিদের খাদ্য তালিকায় থাকা জনপ্রিয় একটি খাবার। আমাদের দেশে সাধারণত টক ও মিষ্টি দুই ধরনের দইয়ের প্রচলন রয়েছে। অনেকে আবার এটাকে দধি বা দই বলে থাকে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অনেকে টক দই রাখার পাশাপাশি মিষ্টি দইও রাখেন। দধি বা দই হলো এক ধরনের দুগ্ধজাত খাদ্য যা দুধের ব্যাক্টেরিয়া গাঁজন থেকে প্রস্তুত করা হয়। ল্যাক্টোজের গাঁজনের মাধ্যমে ল্যাক্টিক এসিড তৈরি করা হয়। যা দুধের প্রোটিনের উপর কাজ করে দইয়ের স্বাদ ও অতুলনীয় গন্ধ প্রদান করে থাকে।
প্রায় ৪৫০০ বছর যাবত মানুষ দধি বা দই তৈরি করছে এবং মানুষ তা খেয়ে আসছে। এদিকে মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকা দইয়ের মধ্যে দুধের সরের পরিবর্তে যদি টিস্যু পেপার দিয়ে সর তৈরি হয় তা হলে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বেনা একথা অস্বীকার করার নয়। মূলত ১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় দুধ গরম করার ফলে দুধের উপর এক ধরনের পাতলা ও হালকা হলদে ভাব ক্রিমের আস্তারণ পড়ে থাকে যা দুধের সর নামেই পরিচিত। দুধের সর ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক রং উজ্জ্বল করতে অগ্রনী ভুমিকা পালন করে। দইয়ের পাশাপাশি দুধের সরে অনেক উপকার বিদ্যমান থাকলেও কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের সরলতা এবং বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত ভেজাল দই বিক্রি করে ঠকাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরায় “অরজিনাল সাগর সুইটস্” নামক একটি মিষ্টির দোকানে দইয়ের উপরের অংশে দুধের স্বরের পরিবর্তে টিস্যু পেপার দিয়ে সর তৈরি করে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সাগর নামে এক ভোক্তা বলেন, গত ০৭ জুলাই রবিবার আনুমানিক রাত ০৯ টার দিকে তিনি সাতক্ষীরা শহরের আমিনিয়া মার্কেট সংলগ্ন “অরজিনাল সাগর সুইটস্” নামক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ খুলি দই দুই শত ত্রিশ টাকায় ক্রয় করেন। দই নিয়ে বাড়িতে যেয়ে খাওয়ার সময় ঘটে বিপত্তি।
তিনি দই খাওয়ার সময় তার দাতে শক্ত উপকরণের উপস্থিতি টের পায়। তাৎক্ষণিক তিনি দইয়ের উপরের অংশে দেখেন সরের পরিবর্তে টিস্যু পেপার সাদৃশ্য বস্তু। এরপর তিনি ভালো ভাবে দেখে টিস্যু পেপার বলে নিশ্চিত হন। ভুক্তভোগী ঐ ভোক্তা বলেন, তিনি উল্লেখিত মিষ্টির দোকান থেকে দই কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা শহরস্থ “অরজিনাল সাগর সুইটস্” এর স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ সাগর। দীর্ঘদিন যাবত দুধের সরের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে সাদা টিস্যু পেপার দিয়ে সর তৈরি করে ভোক্তাদের কাছে ভেজাল দই বিক্রি করে আসছেন। সে কারণে অরজিনাল সাগর সুইটস্ থেকে দুধের সরের পরিবর্তে টিস্যু পেপার দিয়ে তৈরি ভেজাল দই কিনে ভোক্তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
দইয়ের সরে ভেজাল দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাগর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয় সাতক্ষীরা “অরজিনাল সাগর সুইটস্” এর স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ সাগর এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে দুধের সরের পরিবর্তে টিস্যু পেপার দেওয়ার ব্যাপারে তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয় সাতক্ষীরা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর সাতক্ষীরা জেলার সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান এর সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে সাম্প্রতিক সময় দইয়ে টিস্যু পেপার দিয়ে সর তৈরি করে বিক্রি কাণ্ডে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ায় নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে দোকানের ইমেজ বাড়ানোর তাগিদে একাধিক অনলাইন পোর্টালে টিস্যু পেপার ছাড়া দইয়ের খুলির ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করেন সাতক্ষীরার অরজিনাল সাগর সুইটস্ নামক প্রতিষ্ঠানটি।
















