মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানিও। ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার চর, দ্বীপচরসহ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বানভাসী প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষজন। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনো খবারের সংকট।
গতকাল শনিবার (৬ জুলাই) সকালে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ও হাতিয়া পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
প্রায় ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার চর, দ্বীপচরসহ নিম্নাঞ্চলের শত শত বাড়িঘর রাস্তা ঘাট প্লাবিত হয়েছে। এসব চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ইতিমধ্যে ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু এলাকায় ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করলেও অনেকে এখনো রয়েছে বাড়িতে। কাঁচা-পাকা সড়ক গুলি পানিতে তলিয়ে থাকায় বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। এই বন্যায় আড়াই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৭১টি স্কুল ও ৩২টি মাদ্রাসায় আজকের সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেজ উদ্দিন সরকার। তিনি জানান, ‘জেলায় ১৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে ও মাঠে পানি প্রবেশ করায় পরিক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় ৬ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমির ফসল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আবুল কাশেম বলেন, ‘গত চারদিন ধরে পানিতে অবস্থান করছি। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।’
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জের বালাডোবা চর এলাকার আমেনা বেগম জানান, ‘ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠেছে। সে কারনে পার্শ্ববর্তী উচু যায়গায় পরিবার নিয়ে কোন রকমে জীবনযাপন করছি। আমাদের অবস্হা দেখেও কেন জিজ্ঞেস করছেন।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আরো দুইদিন পর্যন্ত বন্যার পুর্বাভাস রয়েছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ জানান, বন্যা দুর্গত এলাকায় জন্য ২৯১ টন চাল, ২০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও সাড়ে ১৫ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে জরুরী প্রয়োজনে বরাদ্দ আরো বাড়ানো হতে পারে।
















