মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:
মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান কবীর।
ফুল প্লেস সিনিয়র প্রধান শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়ন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিনিয়রিটি ও জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছেনা পরিপত্র।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের স্বদিচ্ছা ও গাফিলতির কারনে বাড়ছে অপরাধ। ডিজি প্রতিনিধি অজয় কুমার হালদার এর যোগসাজশে বন্ধ হচ্ছেনা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বানিজ্য।
সাতক্ষীরায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনিয়র প্রধান শিক্ষকদের ব্যতিরেখে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়ন করায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। দায়িত্বশীলদের স্বদিচ্ছা ও গাফিলতির কারনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ বানিজ্য সহ নানাবিধ অপরাধ। স্পষ্ট পরিপত্র, নীতিমালা ও নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরব ভুমিকায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে। নিয়োগ কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান/ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসার এর সাথে বিভিন্ন সময় বক্তব্য গ্রহণ কালে সাংবাদিকদের সাথে পরিপত্র নিয়ে একএকজন এক-এক রকম মনগড়া বক্তব্য প্রদান করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপি বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করায় বিভিন্ন সময় নিয়োগ কমিটির সদস্য সহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পাশাপাশি নিয়োগ কার্যক্রমকে অনেকাংশেই বিতর্কিত করছে যা স্পষ্ট পরিপত্র লঙ্ঘনের ধৃষ্টতার সামিল। সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার “বড়দল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়” নিয়োগের ক্ষেত্রে মানা হয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার কে অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় সমুহের মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরা তালা উপজেলার সৈয়দ দীদার বখত্ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় গত ইং ০১-০৯-২৩ তারিখ তিন পদে নিয়োগ বোর্ড বসার আগে অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন কর্তৃক ৪০ লক্ষ টাকায় মনোনীত প্রার্থীদের মাঝে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁস, নির্দিষ্ট সময় সূচীর আগেই সাজানো পাতানো নিয়োগ পরীক্ষায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রাপ্ত “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার। এসব অপকর্মে তাকে সহযোগিতা করেছে “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর সহকারী শিক্ষক মহিনুর ইসলাম ও সুধাংশু কুমার সরকার। ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্রিকায় খবরটি প্রকাশ হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার এর পিডিএস আইডি নং – ২০১৬৭০০৯৬৯, সহকারী শিক্ষক মহিনুর ইসলাম এর পিডিএস আইডি নং ২০১৬৭০১০১৫, সহকারী শিক্ষক সুধাংশু কুমার সরকার এর পিডিএস আইডি নং ২০১৬৭০০৯৭২। ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে অজয় কুমার হালদার এর মনোনয়ন প্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হরিহর নগর মুড়াগাছা শাহপুর এইচ,এম,এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বড়দল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাইনতলা রায়চরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তালতলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
কালিগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সব নিয়োগে ডিজি প্রতিনিধি দেওয়া হয় সাতক্ষীরা তালা উপজেলার “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুল পদ কৃষি শিক্ষক অজয় কুমার হালদার কে। অজয় কুমার হালদার নবম গ্রেড স্কেলের একজন শিক্ষক। নিজ উপজেলা সহ অন্যান্য উপজেলায় হরহামেশা বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি বালক-বালিকা বিদ্যালয়ে “ফুল প্লেস” সিনিয়র প্রধান শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির বলে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান কবির ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হাতে তুলে দিচ্ছে অজয় কুমার হালদার কে। এর ফলে একদিকে যেমন বারবার সিনিয়রিটি ও জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন হচ্ছে অপরদিকে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বাড়ছে নানাবিধ অপরাধ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতিপূর্বে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান কবির “তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে তিনি গত ইং ২৭-০৮-২৩ তারিখ সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।
জেলা শিক্ষা অফিসারের আইডি নং ২০১৬৭০০০৯৩। জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান কবীর তার পূর্বের কর্মস্থল “তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুবাদে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অজয় কুমার হালদার, শিক্ষক মহিনুর ইসলাম এবং সুধাংশু কুমার সরকার এর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। সে কারণে “তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” সংক্ষিপ্ত নাম “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার কে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজ উপজেলা তালা থেকে শুরু করে অন্য উপজেলায় জেলা শিক্ষা অফিসার নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিজি প্রতিনিধির মনোনয়ন দিচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার তার সহকারী দুই শিক্ষক মহিনুর ইসলাম ও সুধাংশু কুমার সরকার কে দিয়ে নিয়োগ বোর্ড বসার পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনা সাপেক্ষে মনোনীত প্রার্থীদের মাঝে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ প্রদান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন পদ ভিত্তিক ঘুষ গ্রহণ করে। নিয়োগ কেন্দ্রিক প্রতিটা পদের বিপরীতে এক লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে প্রকারভেদে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহণ করেন অজয় কুমার হালদার এর পক্ষে তার দুই অপকর্মের হোতা মহিনুর ইসলাম এবং সুধাংশু সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সহ প্রাপ্ত আবেদনকারীর সংক্ষিপ্ত তালিকা নিজ প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড/ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে তথ্য গোপন করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার। তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার এর মুল পদ কৃষি শিক্ষক। আজয় কুমার হালদার ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়ন পেয়ে স্ব-ঘোষিত তারিখ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে নিয়োগ বোর্ড বসানোর দিন তার দুই সহকারী শিক্ষক মহিনুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক সুধাংশু কুমার সরকার কে সঙ্গে নিয়ে বিলাশ বহুল প্রাইভেট কার যোগে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হয়ে তার জায়গায় দায়িত্ব পালন করেন উল্লেখিত সহকারী দুই শিক্ষক। মহিনুর ইসলাম ও সুধাংশু কুমার সরকার কে দিয়ে নিয়োগ বোর্ডে দায়িত্বশীল ৫ জনের সাথে বিধিবহির্ভূত ভাবে উপস্থিত থেকে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করেন এবং খাতা দেখেন যা নীতিমালা বহির্ভূত অপরাধ এবং ধৃষ্টতার সামিল।
এদিকে নিয়োগ কেন্দ্রিক সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নিকট থেকে অবৈধ পন্থায় হাতানো ঘুষের টাকার একটি অংশ চলে যায় জেলা শিক্ষা অফিসারের পকেটে এবং অবশিষ্ট বাকি টাকা থেকে “তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” সংক্ষিপ্ত নাম “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার সহ একই বিদ্যালয়ের সহকারী (সমাজ বিজ্ঞান) শিক্ষক মহিনুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক সুধাংশু কুমার সরকার এর মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক সহ একাধিক ব্যক্তি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয় “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, নিয়োগ বোর্ডে আমি মুখে প্রশ্ন বলি আর মহিনুর ইসলাম ও সুধাংশু কুমার সরকার প্রশ্ন লেখেন। নিয়োগের আগে প্রশ্ন ফাঁস ও ঘুষ গ্রহণ করার ব্যাপারে তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয় “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর সমাজ বিজ্ঞান শিক্ষক মহিনুর ইসলাম এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে বলেন, নিয়োগ বোর্ডে আমাদের থাকার বৈধতা আছে। এ বিষয় “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর সহকারী শিক্ষক সুধাংশু কুমার সরকার এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, আমরা নিয়োগ বোর্ডে খাতা দেখি। প্রশ্ন ফাঁস করে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ গ্রহণ ও ভাগবাটোয়ারা করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন আমরা নিয়োগ বোর্ডে গেলে সম্মানি পাই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিপত্রের নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বোর্ডে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে তিনি নিয়োগ কমিটির সভাপতি, মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি প্রতিনিধি নিয়োগ কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিয়োগ কমিটির সদস্য, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি নিয়োগ কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধান/ ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব সহ মোট ৫ জন নিয়োগ বোর্ডে উপস্তিত থেকে বিধিমোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ কমিটির ৫ জন ছাড়া অন্য কোন বহিরাগত ব্যক্তি নিয়োগ বোর্ডের মধ্যে কোন প্রকার দায়িত্ব পালন করার সুযোগ না থাকলেও মানতে নারাজ অনভিজ্ঞ অজয় কুমার হালদার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুধুমাত্র টাকার জন্য নিজেদের নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে পাতানো নিয়োগ বোর্ডের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে অজয় কুমার হালদার ও তার অপকর্মের দুই সহযোগী মহিনুর ইসলাম ও শিক্ষক সুধাংশু কুমার সরকার। ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়ন দিয়ে এসব অপকর্মের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান কবির। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়োগ কমিটিতে মহাপরিচালক এর একজন প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি লঙ্ঘন ও নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারন নিয়ে জটিলতা তৈরির কারনে গত ইং ১৮-০৯-২২ তারিখ অনুষ্ঠিত এমপিও কমিটির সভায় আলোচনা করা হয়। অলোচনান্তে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে ডিজি প্রতিনিধি মমনোনয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি বালক/বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডিজি’র প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাংলাদেশ, ঢাকা থেকে (৩৭,০২,০০০০,১০৭,৩১,৪০১,২০২১-১৮৮০(গ) নম্বর স্মারকে এমপিও কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম বিষয়ে এমপিও কমিটির সভায় উপরিউক্ত সিদ্ধান্ত প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয় এবং গত ইং ০৩-১১-২২ তারিখ জেলা শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।
অদৃশ্য শক্তির বলে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার শাহাজাহান কবির পরিপত্র ও শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে টাকার মোহে আকৃষ্ট হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার কে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপি বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে যা নীতিমালা বহির্ভূত কাজ। সরেজমিনে নিয়োগ কেন্দ্রিক উৎকোচ বানিজ্য, প্রশ্ন ফাঁস সহ উল্লেখিত অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তদন্ত করলে সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমান পাবেন। এ বিষয় সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান কবির এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এর সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) খুলনা বিভাগ এর উপ-পরিচালক খোঃ রুহুল আমিন মুঠোফোনে আলাপকালে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি বলেন, মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো।
এ বিষয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা বাংলাদেশ এর মাধ্যমিক উইং পরিচালক সৈয়দ জাফর আলী মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কেন্দ্রিক যদি কোন অনিয়ম, অপরাধ সংগঠিত হয় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















