লেখক: শাহ আলম সরকার, ইনচার্জ (ন্যাশনাল ডেস্ক), বাংলা ভয়েস
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি চলাকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি ছিল সেটি। সেদিন সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও সহিংস ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী নিহত হন। পরে এনায়েতপুর থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ১৫ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান।
সেদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ চলছিল। সংঘর্ষের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছিল এবং বাংলা ভয়েসের ফেসবুক পেইজে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
প্রায় সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে তিন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর জানা যায়। তাদের অনুরোধে চলমান ফেসবুক লাইভে ওই তথ্য জানানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি হামলা চালিয়ে সংবাদ সংগ্রহে ব্যবহৃত ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়, চলমান ফেসবুক লাইভ বন্ধ করে দেয় এবং ক্যামেরায় ধারণ করা দিনের সব গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ও ফুটেজ মুছে ফেলে। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি একপর্যায়ে প্রাণনাশের আশঙ্কাও তৈরি হয়।
পরে স্থানীয় কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি উদ্ধার করে খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আহতদের ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য সংগ্রহ শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়।
বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানা যায়, এনায়েতপুর থানায় আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ওই ঘটনায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। কিছুক্ষণ আগেই যে এলাকা থেকে ফিরে আসা হয়েছিল, সেখানে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ৪ আগস্টের সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি আজও অমলিন। গুলির শব্দ, মানুষের ছুটোছুটি, আহতদের আর্তনাদ ও মৃত্যুভয়ের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। একই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ৪ আগস্টের সব শহীদকে, যাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


















