টানা বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চালু হওয়া পেজটি অল্প সময়েই নেটিজেনদের দৃষ্টি কাড়ে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপের ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর সিটি কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন। ওই কথোপকথন অন্য একটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
ভিডিওতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসে।” ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেক শিক্ষার্থী একে অবমাননাকর বলে দাবি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান।
একই ফোনালাপে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার রুটিন নির্ধারণেও সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়েছিল।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দবন্ধটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডে পরিণত হয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে “আমি কে, তুমি কে—ফার্মের মুরগি” স্লোগান শোনা যায়। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান আন্দোলনকারীরা।
এদিকে ১৩ জুলাই রাতে ফেসবুকে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি পেজ চালু হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পেজটির প্রোফাইল ছবি শতাধিকবার শেয়ার হয়েছে। সেখানে আন্দোলনের ছবি-ভিডিও, কর্মসূচির আপডেট, ব্যঙ্গধর্মী পোস্ট ও বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে।
পেজটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লাবীব মুহান্নাদ এক পোস্টে লেখেন, বর্তমান প্রজন্ম অন্যায় দেখলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা মনসুর আব্দুল্লাহও এক পোস্টে দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রীর ‘ব্রয়লার চিকেন’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই শিক্ষার্থীরা ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে এই পেজ চালু করেছে।
সাংবাদিক জামিল আক্তার লেখেন, “ব্রয়লার পার্টি এসে গেছে। ককরোচ পার্টির মতো কি এটাও জমবে?” অন্যদিকে জুয়াইয়া নওশীন মন্তব্য করেন, “ককরোচ জনতা পার্টি থেকে উদ্বুদ্ধ ব্রয়লার চিকেন পার্টি। কী এক জেনারেশনের মুখোমুখি হচ্ছেন মুরুব্বিরা, এখনো বুঝতে পারছেন না।”
আরেকটি পোস্টে মো. শাহরিয়ার আহমেদ লেখেন, “৯০-এর দশকের চিন্তা নিয়ে এখনকার প্রজন্মকে বোঝা যাবে না। এরা আগে অ্যাকশন নেয়, পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করে।”
শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য, তা ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া এবং ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেজের দ্রুত জনপ্রিয়তা—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


















