মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের তীর এখন উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান বঙ্গবাসীর দিকে। অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ।
পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ওই স্কুলছাত্রীর মোবাইল ফোনে কল করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে বলেন, “তোমাকে আমার ভালো লাগে।” এরপর রাতেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় মেয়েটি। চার দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন রাতে রৌমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। ঘটনার আগে বিকেলে সাবেক চেয়ারম্যানের ফোনকলের বিষয়টি সে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার দাদি।
নিখোঁজ ছাত্রীর দাদি অভিযোগে বলেন, “আমার নাতনি কোথায় আছে, তা বঙ্গবাসী জানেন। তাকে খুঁজতে গিয়ে তার বাড়িতে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং তাড়িয়ে দেন।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মেয়েটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী। তিনি বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছিল। তার ভাষ্য, মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্যই ওই যোগাযোগ হয়েছিল।
বঙ্গবাসী বলেন, “আমি কোনো অনৈতিক কথা বলিনি। বরং মেয়েটির লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। এখন আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে।”
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কর্তিমারী বাজারে গিয়ে সাবেক চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রৌমারী থানা পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কাজ চলছে।”
চার দিন ধরে মেয়েটির কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় পুরো রৌমারীজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


















