মো. পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী ও ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল, স্বেচ্ছাসেবী মো. শরিফুল ইসলাম, জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের, ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সহসভাপতি রিনা বেগম এবং পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন হাসিনুর।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, গত ২৬ এপ্রিল স্কুলে যাওয়ার পথে পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে শান্ত (২৫) তার মেয়েকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। পরে তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো বিভিন্নভাবে আপসের প্রস্তাব ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো আপসের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
পরে মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















