জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিতে অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৈঠক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ২৫ ডিসেম্বর জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দেওয়া তাহরিমা জান্নাত সুরভী এবং ৩ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর মাহদী এক দিন ও সুরভী ১১ দিন পর জামিন পান।
দায়মুক্তির আইনি কাঠামো কীভাবে হতে পারে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দায়মুক্তি দিয়ে জারি হওয়া আইন ও অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, একই কাঠামোয় জুলাইযোদ্ধাদের জন্যও অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে।
ছাত্র আন্দোলনের দাবির গুরুত্ব : এর আগে ৪ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তিন দফা দাবি তোলে। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল—২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি। উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় বলে সূত্র জানায়।
উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আগামীকাল বুধবার দাখিল করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে আলোচনা
সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান ও মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ দমন এবং পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।


















