সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি, ইনশাআল্লাহ সে দ্রুত প্রতিকার পাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সে দ্রুত প্রতিকার পাবে।’

এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে সুরভীকে আটক করা হয়। প্রথমে টঙ্গী পূর্ব থানায় এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পরে তাকে কালিয়াকৈর থানার হস্তান্তর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে সুরভীর জন্ম সনদ অনুযায়ী তিনি এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এই রিমান্ড এবং তাকে কারাগারে পাঠানো নিয়ে ‘শিশু আইন, ২০১৩’ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সুরভীর আইনজীবী বলেন, ‘এই মামলাটি সম্পূর্ণ ভুয়া। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আগামীকালই উচ্চ আদালতে রিভিশন আবেদন করব।’
মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জন্ম সনদ অনুযায়ী সুরভীর জন্ম ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর। সে হিসেবে আজ পর্যন্ত তার বয়স ১৭ বছর ১ মাস ৭ দিন। অর্থাৎ তিনি আইনত একজন ‘শিশু’। অথচ পুলিশ তাকে ২১ বছর বয়সী দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করেছে। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর তাকে ২০ বছর দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
উল্লেখ্য, ‘শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী যে কোনো ব্যক্তি শিশু হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদের কোনোভাবেই রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি তাদের সাধারণ জেলহাজতের পরিবর্তে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার বিধান রয়েছে। সুরভীর ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবীরা।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, মামলার বাদী এজাহারে যে বয়স উল্লেখ করেছেন, পুলিশ প্রাথমিকভাবে সেভাবেই রেকর্ড করেছে। তবে সুরভীর এসএসসি পাসের তথ্য ও বর্তমান কলেজ (ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ) রেকর্ড বলছে তিনি একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ডিসেম্বর গাজীপুরের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তাহরিমা জান্নাত সুরভী। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সক্রিয় ভূমিকার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তার প্রকৃত বয়স এবং শিশু আইনের সুরক্ষা না পাওয়া নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


















