বাংলা ভয়েস ডেস্ক :
নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।
২০১৮ এর নির্বাচনের আগে তিনি ভাঙ্গার আজিমপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে একটি সুবিশাল বাংলোবাড়ি নির্মাণ করেন। সেই বাড়িটি ব্যবহার করা হতো ভিন্ন মত দমনের ‘টর্চার সেল’ হিসেবে। শাস্তি হিসেবে অনেককে আটকে রাখা হতো টয়লেটে। শীতের রাতে কাউকে চুবানো হতো বাংলোবাড়ির সামনের পুকুরে। এ ছাড়া বাড়ির ভেতরে করা হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
শেখ পরিবারের এ সদস্য আগে কখনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। শুধু শেখ পরিবারের সদস্য হওয়ায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের মাত্র ১৯ দিন আগে শিবচরে এসে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে যান। ‘রাজনীতি না করলেও জনগণের ভালোবাসায়’ তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন— এমন তথ্য বিভিন্ন সভায় তিনি নিজেই গর্বের সঙ্গে জানান দেন।
স্থানীয়রা জানান, তাকে (নিক্সন) বা তার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে হতো ‘ওপেনে’। গত সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ভোট এনে দিতে না পারায় ৮০ থেকে ৯০ জন এজেন্টকে নিক্সনের নির্দেশে তার বাংলোবাড়িতে আনা হয়। পরে শাস্তিস্বরূপ তাদের শীতের রাতে পুকুরের পানিতে চুবানো হয়। এ ছাড়া এলাকার কেউ তার অবাধ্য হলে বাড়িতে ডেকে এনে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের উদ্দেশ্যে টয়লেটে আটকে সাজা দেওয়া হতো।
মেজাজ খারাপ হলে কাউকেই ছাড় দিতেন না নিক্সন। দলীয় লোক হোক বা ইউপি চেয়ারম্যান, তাদের পরিবারের সামনে চরমভাবে অপমান-অপদস্থ করতেন তিনি। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সদরপুরে নিজের প্রার্থীকে জেতাতে শহিদুল ইসলাম নামের এক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অস্ত্রের মুখে তুলে আনেন তার বাংলোবাড়িতে। এরপর তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালান। পরে অবশ্য শহিদুল ইসলামই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এভাবে বিরোধী মতের লোকজনকে দমাতে নিজ বাংলোবাড়িটি ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন নিক্সন।
















