মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরায় দেশের উত্তাল পরিস্থিতিতেও নিয়োগ কমিটি কর্তৃক পাতানো বোর্ড বসানোর অভিযোগ উঠেছে।
সারাদেশ ব্যাপি যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজমান আছে ঠিক তখনি সকল বাঁধা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বোর্ড বসানোর দুঃসাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্যাহ আল ইমরান সহ নিয়োগ কমিটির সদস্যরা।
এদিকে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়েছে বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বে। সে কারণে বর্তমান সরকারের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাজ পড়েছে। সেকারণে স্কুল, কলেজ সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজমান থাকা সত্ত্বেও কোন প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করেই কুশোডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ আগষ্ট শুক্রবার সকাল ৯.৩০ মিনিট সময় নিয়োগ কমিটিকে ম্যানেজ করে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন কুশোডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ বোর্ডের আগেই ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রার্থী মনোনীত ও চুড়ান্ত করেছেন। পরীক্ষার আগেভাগেই নিয়োগ কমিটিকে ম্যানেজ করার মাধ্যমে বিধিবহির্ভূত ভাবে প্রার্থীদের মাঝে প্রশ্ন পত্র ফাঁস করা হয়েছে বলে এ দাবি করেন স্থানীয়রা। টাকার বিনিময়ে মনোনীত ও চুড়ান্ত করা প্রার্থীরা হলেনঃ পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে শাহিন হোসেন কে মনোনীত ও চুড়ান্ত করে তার নিকট থেকে ১৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। আয়া পদে হালিমা খাতুন কে মনোনীত ও চুড়ান্ত করে তার নিকট থেকে ১৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এদিকে উল্লেখিত চুড়ান্ত করা ২জন প্রার্থী ছাড়া বাকি ৪ জন ডামি প্রার্থী বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয় কলারোয়া কুশোডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান এর সাথে নিয়োগের আগে ২ আগষ্ট শুক্রবার সকাল ৯.০০ টার সময় তথ্য সংগ্রহকালে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ ছাড়া তিনি সাংবাদিকদেরকে সে দ্রুত প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এ বিষয় কলারোয়া কুশোডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার আলাপের চেষ্টাকালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয় ডিজি প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম টুকু মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, প্রার্থী চুড়ান্ত করার কোন সুযোগ নেই। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিয়োগ বোর্ড বসানো যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কোন নির্দেশনা না থাকার নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া যাবে। এ বিষয় কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদিন এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, কিন্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলবে।
এ বিষয় কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্যাহ আল ইমরান এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে, দেশের উত্তাপ্ত পরিস্থিতিতে নিয়োগ বোর্ড বসানো যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ড বসানো যাবেনা এমন কোন সরকারি নির্দেশনা নেই। এ বিষয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে আলাপের চেষ্টাকালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
















