মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ
সাতক্ষীরা শ্যামনগর “কৈখালী এস, আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়” প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের আগেই প্রার্থী চুড়ান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে শ্যামনগর উপজেলার ৫ নং কৈখালী এস, আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ নাম ছামছুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য থাকায় উল্লেখিত পদের বিপরীতে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম ১৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ বিনিময়ে একজন প্রার্থীকে বিধিবহির্ভূত ভাবে মনোনীত ও চুড়ান্ত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৈখালী এস, আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দূর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম পরস্পর যোগসাজশে নিয়োগ বোর্ডের পূর্বে প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী শেখ সালাউদ্দিন কে মনোনীত ও চুড়ান্ত করে তার নিকট থেকে ১৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন।
খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগ বোর্ডের আগে টাকার বিনিময়ে মনোনীত ও চুড়ান্ত করা ঐ প্রার্থী কৈখালী এস,আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সালাউদ্দিন শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর (যাদা) গ্রামের মৃত শেখ নওশের আলীর ছেলে। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলে বলেন, নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে বিধিবহির্ভূত ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পাতানো নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থী সালাউদ্দিন কে উত্তীর্ণ করা হবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে।
প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কর্তৃক নিয়োগ কমিটিকে ম্যানেজ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সাজানো পাতানো নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থী সালাউদ্দিন কে প্রধান শিক্ষক পদে নেওয়া হবে মর্মে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কৈখালী এস, আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে চুড়ান্ত প্রার্থী সালাউদ্দিন ছাড়া অন্যান্য আবেদনকারীরা মুলত সবাই ডামি প্রার্থী। কৈখালী এস,আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির নিমিত্তে প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি করতে অনিচ্ছুক ডামি ব্যক্তিদের দিয়ে উল্লেখিত পদের বিপরীতে আবেদন করিয়েছেন।
বেসরকারি কিছু সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বোর্ডের পূর্বে প্রার্থী চুড়ান্ত করার ব্যাপারে আগেভাগেই লোকমুখে জানাজানি ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় নিয়োগ কমিটির সদস্যরা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। বাংলায় প্রবাদ আছে “যার টাকা খাওয়া হয়” তার একটু গুন গাইতে হয়। সে কারণে বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা ডামি প্রার্থীকে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্টে প্রথম দেখিয়ে এবং চুড়ান্ত করা প্রার্থীকে দ্বিতীয় দেখিয়ে রেজাল্ট প্রকাশ করছে। এর পর ঐ ডামি প্রার্থীকে দিয়ে লিখিত নেওয়া হয়। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে আমি উক্ত পদের বিপরীতে চাকরি করতে ইচ্ছুক নয়।
এসব কারসাজির অন্তরালে দ্বিতীয় হওয়া অর্থাৎ আগেভাগেই চুড়ান্ত করা ঐ প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করানো হয়। সুশীল সমাজের মতে যারাই রক্ষক তারাই এখন ভক্ষক হয়ে উঠেছে। মেধা নয় শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে চাকরি প্রথা দিনকেদিন মরন ব্যাধি ক্যান্সারে পরিনত হয়েছে।
এ বিষয় “কৈখালী এস, আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে ১৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ বিনিময়ে প্রার্থী সালাউদ্দিন কে চুড়ান্ত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয় “কৈখালী এস, আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বোর্ডের আগে ১৫ লক্ষ টাকায় সালাউদ্দিন কে চুড়ান্ত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ও ডিজি প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম টুকু মুঠোফোন আলাপকালে তিনি বলেন, বিধিমোতাবেক স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ বিষয় শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ (তেজারত) এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে কৈখালী এস,আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কর্তৃক প্রধান শিক্ষক পদে ১৫ লক্ষ টাকায় সালাউদ্দিন কে মনোনীত করার ব্যাপারে তিনি বলেন এ ব্যাপারে আমি অবগত নই। মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয় শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নিয়োগ কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল রিফাত মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, নিয়োগের আগে প্রার্থী চুড়ান্ত করার কোন সুযোগ নেই। বিধিমোতাবেক স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এদিকে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কর্তৃক নিয়োগ বোর্ডের আগে ১৫ লক্ষ টাকায় শেখ সালাউদ্দিন কে প্রধান শিক্ষক পদে মনোনীত করার ঘটনায় কৈখালী এস, আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর দাতা সদস্য জি,এম রেজাউল করিম পাতানো নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের জন্য গত ০৪ জুলাই শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক সহ শ্যামনগর- কালিগঞ্জ আংশিক সাতক্ষীরা ০৪ আসনের সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
















