মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ
সাতক্ষীরায় ঘুষের টাকায় বেপরোয়া বেসামাল হয়ে পড়ছে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা। সে কারণে বাড়ছে নানাবিধ অপরাধ। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কেন্দ্রিক প্রতিনিয়ত বাড়ছে উদ্যেগ আর উৎকন্ঠা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দেওয়া টাকার কাছে নিজেদের নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে পাতানো নিয়োগ বোর্ডের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে নিয়োগ কমিটি।
প্রথমে প্রশ্নপত্র ফাঁস এর পর পাতানো নিয়োগ বোর্ডের সুযোগ সৃষ্টি। ঘুষের কাছে দিনকেদিন বেসামাল হয়ে পড়ছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কেন্দ্রিক দায়িত্বশীল নিয়োগ কমিটির কিছু সংখ্যক বেপরোয়া স্বভাবের সদস্যরা। ফলে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
নিয়োগ বানিজ্য বন্ধ করার নিমিত্তে সরকারি ভাবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। গেলো ১০ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নতুন পরিপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দেশনা জারী করা হয়। কিন্ত তাতেও বন্ধ হচ্ছেনা নিয়োগ বানিজ্য অপকর্ম। “টাকা দিলেই চাকরি না দিলে নয়” এমনটাই যেন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান সময় নিয়োগ বানিজ্য যেন মরন ব্যাধি ক্যান্সারে পরিনত হয়েছে। সুশীল সমাজের মতে, যারাই রক্ষক তারাই এখন ভক্ষক। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়োগ বানিজ্য অপকর্ম থেকে বাদ পড়েনি সাতক্ষীরা কলারোয়া সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়। জানা গেছে, গত ২৯ জুন শনিবার অফিস সহায়ক পদে উল্লেখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বোর্ড বসানো হয়। কিন্ত সে নিয়োগ বোর্ড ছিল আগে থেকেই সাজানো, পাতানো।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নিয়োগ বোর্ডের পূর্বে “সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর অফিস সহায়ক পদে আগেভাগেই একজন প্রার্থীকে ১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মনোনীত ও চুড়ান্ত করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুদ্দীন আল মাসুদ। টাকার বিনিময়ে মনোনীত ও চুড়ান্ত করা ঐ প্রার্থী কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের খোদ্দবাটরা গ্রামের বিজয় গুপ্তর ছেলে সুশান্ত গুপ্ত।
এদিকে যে কোন মুল্যে মনোনীত প্রার্থীকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নিমিত্তে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিয়োগ কমিটির সদস্যদের কে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে। যার ফলশ্রুতিতে গত ২৯ জুন নিয়োগ বোর্ডের আগে অর্থাৎ ২৮ জুন প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়। প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ১৭ লক্ষ টাকা উৎকোচ বানিজ্য সহ প্রার্থী চুড়ান্ত অপকর্মে প্রথমে প্রশ্নপত্র ফাঁস পরে প্রার্থী উত্তীর্ণ করায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন নিয়োগ কমিটির সদস্য ডিজি প্রতিনিধি ও তালা “শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক অলোক কুমার তরফদার, কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদীন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল ইমরান। গত ২৮ ও ২৯ জুন “সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুদ্দীন আল মাসুদ কর্তৃক নিয়োগ বোর্ডের আগে কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন এর খোদ্দবাটরা গ্রামের সুশান্ত গুপ্ত কে ১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অফিস সহায়ক পদে চুড়ান্ত এবং পরীক্ষার আগে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার মধ্য দিয়ে যে কোন মুল্যে তাকে নেওয়া হবে মর্মে সংবাদটি বিভিন্ন প্রিন্ট পত্রিকা, পত্রিকার অনলাইন সহ একাধিক অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ হয়।
সংবাদ প্রকাশ হওয়া স্বত্বেও কলারোয়া সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটির দায়িত্বশীল তিন সদস্য কোন প্রকার ভ্রুপক্ষেপ না করে ঝুঁকি নিয়ে সুশান্ত গুপ্ত কে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করেন অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ প্রদান করার লক্ষ্যে। গত ২৮ জুন উল্লেখিত নিয়োগ কমিটির সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। রীতিমতো তারা নিজেদের ইমেজ বাড়ানোর তাগিদে নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রিক স্বচ্ছতার বাণী শোনান। কিন্ত প্রকৃতপক্ষে দেখা গেছে তার ভিন্ন চিত্র। নিয়োগ বোর্ডের আগে ১৭ লক্ষ টাকায় চুড়ান্ত করা প্রার্থী সুশান্ত গুপ্ত কে ২৯ জুন পাতানো পরীক্ষায় বিধিবহির্ভূত ভাবে উত্তীর্ণ করায় নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার বিষয়টি সামনে আসে এবং জনসম্মুখে প্রকাশ পায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পেছনে রয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকার যোগসূত্র।
টাকার বিনিময়ে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সুশান্ত গুপ্ত কে উত্তীর্ণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয় “সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন এর সাথে মুঠো ফোনে একাধিক বার আলাপের চেষ্টাকালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয় “সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও পদাধিকারবলে নিয়োগ কমিটির সভাপতি শামসুদ্দীন আল মাসুদ এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে নিয়োগ বোর্ডের আগে ১৭ লক্ষ টাকায় সুশান্ত গুপ্ত কে অফিস সহায়ক পদে মনোনীত ও চুড়ান্ত করার ব্যাপারে গত ২৮ জুন বক্তব্য কালে তিনি অস্বীকার করেন। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সুশান্ত গুপ্ত কে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা এবং চুড়ান্ত করা প্রার্থীকে পাতানো নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে উত্তীর্ণ করার ব্যাপারে গত ২৯ জুন জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বোর্ড স্বচ্ছ হয়েছে এবং এসিল্যান্ড সব কিছু নিজেই তদারকি করেছেন।
এ বিষয় ডিজি প্রতিনিধি তালা “শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক ও পদাধিকারবলে নিয়োগ কমিটির সদস্য অলোক কুমার তরফদার এর সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয় কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদীন এর সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করার তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি কলারোয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নিয়োগ কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইমরান এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে কলারোয়া সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কর্তৃক ১৭ লক্ষ টাকায় চুড়ান্ত করা অফিস সহায়ক পদে সুশান্ত গুপ্ত কে নিয়োগ প্রদান করা হবে মর্মে ২৮ জুন বক্তব্যে অবহিত করা স্বত্তেও তাকে উত্তীর্ণ করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শতভাগ ফেয়ার পরীক্ষা নিয়েছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নিজেই প্রশ্ন তৈরি করেছি ফাঁস হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে ম্যানেজ হওয়ার ব্যাপারে তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে “সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর দূর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কর্তৃক ১৭ লক্ষ টাকা উৎকোচ বানিজ্য সহ মনোনীত প্রার্থীকে বিধিবহির্ভূত ভাবে উত্তীর্ণ করায় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করার পাশাপাশি অবিলম্বে পাতানো নিয়োগ বোর্ড বাতিল করার জন্য দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল সহ সুশীল সমাজ।
















