মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:
সাতক্ষীরা তালা “কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” নিয়োগ বোর্ড বসার পূর্বে দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করে অর্ধ কোটি টাকা বানিজ্যে চার পদের বিপরীতে প্রার্থী চুড়ান্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
আবেদন প্রার্থী ও স্থানীয়রা অভিযোগ তুলে বলেন, কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিয়োগ বোর্ড বসার আগে প্রার্থী মনোনীত করে তাদের নিকট থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ইতিপূর্বে খবরটি বিভিন্ন পত্রিকা সহ একাধিক অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ হওয়ায় বাধ্য হয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও নিয়োগ কমিটির সদস্য তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাত হোসেন একপর্যায় গত ১৯ এপ্রিল কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করেন। এ ঘটনায় ঘুম হারাম হয়ে যায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদার।
একপর্যায় “কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার শীল ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদা নিয়োগ কমিটির দায়িত্বশীল তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমেদ, তালা বিদে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এর মনোনয়ন প্রাপ্ত ডিজির প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ম্যানেজ করার মাধ্যমে ১০-০৫-২৪ তারিখ শুক্রবার দুপুর ০২.৩০ মিনিট সময় বিধিবহির্ভূত ভাবে নিয়োগ পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে চুড়ান্ত করা চার প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করা হবে।
এর আগে “কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি তাদের চুড়ান্ত করা চার প্রার্থীকে গত ১৭ এপ্রিল নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে সাজানো পাতানো অর্ধ কোটি টাকার নিয়োগ বোর্ড বসাতে ব্যাপক তোড়জোড় চালান। কিন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির উৎকোচ বানিজ্য জনসম্মুখে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় তাদের পাতানো নিয়োগ বোর্ড ভেস্তে যায়। উল্লেখ্য, গত ১৮-০২-২৪ তারিখ “কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” পত্রিকায় ০৪ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পদের মধ্যে আছে সহকারী প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তালা উপজেলার ১১ নং জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি গ্রামের মোস্তাম সরদার এর ছেলে ও কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর সরদার কে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে মনোনীত ও চুড়ান্ত করে ১৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার শীল ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদা খোকন। তালা উপজেলার একই ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি গ্রামের আনিছুর মোড়ল এর ছেলে ইমরান মোড়ল কে নৈশপ্রহরী পদে ১২ লক্ষ টাকা উৎকোচ বিনিময়ে তাকে উক্ত পদে মনোনীত ও চুড়ান্ত করেন প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। একই উপজেলার ১১ নং জালালপুর ইউনিয়ন এর কৃষ্ণকাটি গ্রামের ফকির আহমেদ এর ছেলে আসাবুর মোড়ল কে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে চুড়ান্ত করে তার নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। তালা উপজেলার ১১ নং জালালপুর ইউনিয়নের জেটুয়া গ্রামের পাঞ্জু গাজী এর ছেলে লিটু গাজী কে নিরাপত্তা কর্মী পদে চুড়ান্ত করে তার নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার শীল ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদা খোকন। আর এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন জেলা শিক্ষা অফিসার থেকে শুরু করে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা। তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মনোনয়ন প্রাপ্ত ডিজি প্রতিনিধি, তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমেদ, জেলা প্রশাসক এর প্রতিনিধি তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নিয়োগ কমিটির সদস্য আরাফাত হোসেন মুঠোফোনে বক্তব্য গ্রহণকালে তাদের বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি সহ প্রতিটি পদের বিপরীতে কতজন প্রার্থী আবেদন করেছেন এবং যাচাই বাছাই শেষে কতজন বৈধ প্রার্থী আছে তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের কোন নিজস্ব ওয়েবসাইটে দৃশ্যমান কোন তথ্য প্রকাশ করেনি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার প্রচারণা চালানো হয়নি। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি উচ্চ বালক/বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দিতে হবে। অথচ কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বোর্ডে তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে থাকা অজয় কুমার হালদার কে পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ডিজি’র প্রতিনিধি হিসেবে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে যা পরিপত্রের নীতিমালা বিধিবহির্ভূত কাজ।
সাতক্ষীরায় সরকারি বালক/বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুল প্লেস সিনিয়র প্রধান শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য কারনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত সিনিয়ারিটি ও জৈষ্ঠতা ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে এ দাবি করেন একাধিক সিনিয়র প্রধান শিক্ষক।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার শাহাজাহান কবির কে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে তার মনোনীত ডিজি প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া শিক্ষককে দিয়ে নিয়োগ বোর্ডের আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূত ভাবে সাজানো পাতানো নিয়োগ বানিজ্য অপকর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হচ্ছে। সেকারণে “কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর দূর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার শীল ও অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদা খোকন নিয়োগের আগে ৫১ লক্ষ টাকায় প্রার্থী চুড়ান্ত অপকর্মে পার পাচ্ছে। এসব অপকর্মে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান কবির সহ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটির সদস্যরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। এ বিষয় “কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার শীল এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে নিয়োগ কমিটির দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করে ৫১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চার পদের বিপরীতে চারজন প্রার্থী মনোনীত ও চুড়ান্ত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয় “কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হুদা খোকন এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে নিয়োগ কমিটির দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে বিধিবহির্ভূত ভাবে চারজন প্রার্থীকে ৫১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চুড়ান্ত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয় ডিজি প্রতিনিধি “তালা বি,দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার এর সাথে মুঠো ফোনে একাধিক বার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয় তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমেদ এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে “কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” নিয়োগের আগে ৫১ লক্ষ টাকা প্রার্থী চুড়ান্ত অপকর্মে তাকে ম্যানেজ করেছে কিনা বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয় আমি কোন বক্তব্য দিতে চাইনা। এ বিষয় জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটির সদস্য আরাফাত হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাকে কেউ ম্যানেজ করেনি।
পত্রিকায় ইতিমধ্যে যে সব প্রার্থীদের নাম প্রকাশ হয়েছে তাদের নেওয়া হবেনা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পত্রিকায় যাদের নাম প্রকাশ হয়েছে নিয়োগে যদি তাদের নেওয়া হয় তা হলে আপনাদের অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হবে।
এ বিষয় সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান কবির এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
















