সরকারি বরাদ্দের চালের অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কুষ্টিয়া জেলা ও কুমারখালী উপজেলা শাখার দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে দলটির জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ নোটিশ জারি করা হয়। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কারী ইবাদত আলী এবং কুমারখালী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন। তাদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, সরকারি বরাদ্দের চালের অর্থ আত্মসাত এবং নির্বাচনি সময়ে দলীয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে অন্য রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুমারখালী উপজেলা সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “দুই টন চাল বিক্রি করে ৭১ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৯ হাজার টাকায় শাড়ি-লুঙ্গি কেনা হয়েছে। নেতাকর্মীদের সম্মতিতে ৫ হাজার টাকা দৌলতপুরের একটি ইফতার মাহফিলে দেওয়া হয়। বাকি ৩৭ হাজার টাকা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীরা আমার কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, দলের ভেতরের কিছু অসাধু নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে তাকে সরানোর ষড়যন্ত্র করছেন এবং শোকজের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে জেলা সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ায় সঠিক হিসাব-নিকাশের জন্যই এ শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
৩৭ হাজার টাকা বুঝে পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “হেলাল নিজেই প্রকল্পের পিআইসি ছিলেন। শাড়ি-লুঙ্গিও তিনি কিনেছেন। আমার উপস্থিতিতে কুমারখালীর নেতাকর্মীরা ওই টাকা বুঝে নিয়েছেন। আরও কোনো অনিয়ম আছে কি না, তা জানতে শোকজ করা হয়েছে।”


















