ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদ নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন বন্দুকধারী মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুর রহমান বলেন,“স্টার কাবাবের পাশের একটি গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়। পরে তাদের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন মারা যান।”
নিহত আজিজুর রহমান মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও তিনি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুছাব্বির তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদসহ কয়েকজনকে নিয়ে স্টার কাবাবের গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন হঠাৎ গুলি চালালে মুছাব্বির ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঢামেক হাসপাতালের মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান,“মাসুদের পেটের বাঁ পাশে গুলি লেগেছে। ইতোমধ্যে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।”
এদিকে মুছাব্বির হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই তার সমর্থকরা কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


















