ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় এই হামলা করা হয়েছে।
লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌঘাঁটি। এসব ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। Council on Foreign Relations–এর তথ্য বলছে, অঞ্চলটিতে অন্তত ১৯টি স্থানে মার্কিন সামরিক অবস্থান রয়েছে, যার মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের ঘাঁটিই আছে। এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে বাহরাইন, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের ওপর আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হামলা শুরু করে ইসরাইল। মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের হামলায় দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন শহরের কিছু বেসামরিক স্থাপনাও আক্রান্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতির লঙ্ঘন। ইরান একে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, তারা প্রয়োজনীয় ও কঠোর জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে। এ সময় তারা আত্মরক্ষার অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করেছে।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির জনগণ এতদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করতে ধৈর্য ও সংযম দেখিয়েছে। তবে এখন সশস্ত্র বাহিনী দেশ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং হামলাকারীদের এর ফল ভোগ করতে হবে।
এদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera Media Network-কে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব আমেরিকান ও ইসরাইলি সম্পদ এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু। এই আগ্রাসনের পর আর কোনো ‘রেড লাইন’ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একটি যুদ্ধ শুরু করেছে যার বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব থাকবে। তবে ইরানের জবাব কবে, কীভাবে এবং কতটা বিস্তৃত হবে—তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।


















