ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাসিলান প্রদেশের উপকূলে সোমবার ভোরে ৩৪২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য বহনকারী একটি ফেরি ডুবে গেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখনো কমপক্ষে ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ড ও বাসিলান জেলা প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাসিলানের মেয়র আরসিনা লাজা কাথিং নানোহ। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, ‘ত্রিশা কেরস্টিন ৩’ নামের ফেরিটি সোমবার স্থানীয় সময় ভোরে জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে মিন্দানাও প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই ফেরিটি আকস্মিকভাবে ডুবে যায়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র রোনালিন পেরেজ এএফপিকে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য এখন নিখোঁজ যাত্রীদের দ্রুত খুঁজে বের করা। উদ্ধার তৎপরতায় জনবল সংকট থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে মিন্দানাও প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় করছে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনা নতুন নয়। প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই দেশে অতীতেও একাধিক ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনার নজির রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ ফিলিপাইনে একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।


















