ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি এই নিষেধাজ্ঞার ধারণার বিষয়ে ইতিবাচক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান।
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করা যায় কি না—সে বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার। তরুণদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
প্রযুক্তি মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল সোমবার এ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সোমবার বিকেলে নিহত কিশোরী ব্রায়ানা ঘের মা এস্থার ঘেও এই নিষেধাজ্ঞার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
এদিকে আগামী বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ‘চিলড্রেন’স ওয়েলবিং অ্যান্ড স্কুলস বিল’-এ একটি সংশোধনীর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। সংশোধনীটি পাস হলে বিল অনুমোদনের এক বছরের মধ্যেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি এই নিষেধাজ্ঞার ধারণার বিষয়ে ইতিবাচক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান। সেখানে গত বছরের ডিসেম্বরে একই ধরনের একটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
লিজ কেন্ডাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের মাধ্যমে সরকার ইতোমধ্যে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব আইনই শেষ কথা নয়। আমরা জানি, অভিভাবকেরা এখনো গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। সে কারণেই আমি আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’
সরকারের এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করা সম্ভব কি না, সেই নিয়ম কীভাবে কার্যকর করা হবে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যাতে শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং’-এর মতো আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচার সীমিত করার বিষয়টি।
সরকার আরও জানিয়েছে, তারা প্রতিটি স্কুলকে মোবাইল ফোনমুক্ত করতে চায়। শিক্ষা পরিদর্শক সংস্থা ‘অফস্টেড’ তাদের নিয়মিত পরিদর্শনের সময় স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।
তবে এই সংশোধনীর প্রস্তাবক কনজারভেটিভ দলের লর্ড ন্যাশ মনে করেন, সরকারের বর্তমান উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘যত দেরি হবে, শিশুদের তত বেশি ক্ষতি হবে। আমি বুধবার সব লর্ডের প্রতি আমার সংশোধনীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
নিহত ব্রায়ানা ঘের মা এস্থার ঘেও প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে তার মেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিল এবং টিকটক ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাবে ‘ইটিং ডিসঅর্ডার’ [খাদ্যাভ্যাসের আচরণজনিত সমস্যা] ও ‘সেলফ হার্ম’-এর [নিজের ক্ষতি করা] মতো সমস্যায় ভুগছিল। ২০২৩ সালে ব্রায়ানা দুজন কিশোরের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়। তার মা জানান, ব্রায়ানা তার খুনিদের একজনের সঙ্গে অনলাইনে বন্ধুত্ব করেছিল, যে একপর্যায়ে তাকে বিষপ্রয়োগের চেষ্টাও করেছিল।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শিশুদের সুরক্ষার জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে। আমরা সব ধরনের বিকল্প নিয়ে ভাবছি এবং কোনো সম্ভাবনাই বাতিল করছি না।’


















