তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান। বিক্ষোভকারীরা সরকার পতনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর দাবিও তুলছেন। এরই মধ্যে আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামিস্ট সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে হামলার হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলও সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিক্ষোভ দমনে হিমশিম খাচ্ছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনী সরকারি নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে পরিবারের প্রায় ২০ জন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর নামও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, বিদেশে খামেনির বিপুল সম্পদ রয়েছে।
তবে এসব দাবি সরাসরি নাকচ করেছে ভারতের ইরানি দূতাবাস। এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, খামেনির দেশ ছাড়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। খবরটি প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালেও আয়াতুল্লাহ খামেনি দেশ ছাড়েননি। ফলে বর্তমান বিক্ষোভের কারণে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন—এমন দাবি পুরোপুরি অসত্য। দূতাবাস এই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ছড়ানো অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করে।
এদিকে, ইরানের কোম শহরের ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি জানান, আয়াতুল্লাহ খামেনি সম্প্রতি ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে তিনি সক্রিয়ভাবেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রতিবেদনে নামহীন সূত্রের উল্লেখ থাকলেও কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন সংবাদ প্রকাশ থেকে গণমাধ্যমকে বিরত থাকা উচিত।”


















