সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নথিকে ঘিরে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান এবং ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় একটি চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা প্রতিবেদন ইতোমধ্যে দৈনিক কালবেলার হাতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে আর্থিক অসংগতি ও দ্বৈত বাজেটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অধিকতর তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে দুদক এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
তাদের আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নথির সবচেয়ে আলোচিত অংশে বলা হয়েছে, সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অভিযুক্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা ওই নথিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিল, স্মারক নম্বর এবং উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম কবিরের স্বাক্ষর দেখা গেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া সরকারি আদেশ ছড়িয়ে পড়ার নজির থাকায় নথিটির সত্যতা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।


















