২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোংলা সমুদ্র বন্দরে ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রসারণের ফলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ড্রেজিং, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মোংলা বন্দর ক্রমেই চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প এবং আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনীতিতে আশার আলো হয়ে উঠেছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে দেশি-বিদেশি আমদানিকারকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই বন্দর।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পশুর চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি, কন্টেইনার টার্মিনাল সম্প্রসারণ এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আরও বেশি জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরকে ‘স্মার্ট পোর্ট’-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
মোংলা বন্দর বর্তমানে ভারত, নেপাল ও ভুটানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে কাজ করছে। নৌ, সড়ক ও রেলপথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় অন্যান্য বন্দরের তুলনায় মোংলা দিয়ে পণ্য পরিবহনের খরচ তুলনামূলক কম।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য নিয়ে ৪৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন করেছে। এর মধ্যে ২৭টি কন্টেইনারবাহী জাহাজে বিভিন্ন বিদেশি পণ্য আমদানি করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল, সেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই ১৭ হাজার ৪০০ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এছাড়া, একই সময়ে ১৬টি জাহাজে আমদানি করা হয়েছে ৫ হাজার ২২২টি জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ি।
বর্তমানে মোংলা বন্দর দিয়ে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি), বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ নানা পণ্য নিয়মিতভাবে ইউরোপ ও আমেরিকায় রফতানি হচ্ছে।
মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, ইপিজেড ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দরের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দর রেকর্ড রাজস্ব ও মুনাফা অর্জন করেছে।
মোংলা বন্দরের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান বলেন,“মোংলা বন্দরে বহুমুখী উন্নয়ন কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জাহাজ চলাচল ও পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাড়বে, বাড়বে রাজস্ব আয়—যা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”
চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর দেশের প্রধান বন্দরগুলোর একটিতে পরিণত হবে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















