মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় দ্বিতীয় বিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিকভাবে নেতিবাচক ও আইনগতভাবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক রায়ে সেই প্রচলিত ধারণা ও চর্চায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়; বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতিই আইনসম্মত ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
আদালত উল্লেখ করেন, এতদিন সমাজে প্রচলিত ধারণা ছিল—প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। কিন্তু মুসলিম পারিবারিক আইনে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। আইন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত।
২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত আরও বলেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়। নারীর ক্ষেত্রে পূর্বের দণ্ডবিধান বহাল থাকে।
তবে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা রিট করেছিলেন বলে জানান।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আর্থিক সক্ষমতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে। এ কারণে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তারা।
আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল বিভাগে এই মামলা গড়ালে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেবে।


















