রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট সংবাদদাতা :
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে হাত পা বাধা অবস্থায় একটি নৌকা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত জেলেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত জেলে মজিবর গাজী খুলনা জেলার কয়রার বাসীন্দা। তিনি একজন পেশাদার জেলে।
গভীর রাতে সুন্দরবনের খড়কুড়িয়া খালের নিস্তব্ধতা ভেঙে কোস্ট গার্ডের সার্চলাইট জ্বলে উঠতেই পালিয়ে যায় দস্যুরা। এ সময় জিম্মি করে রাখা এক জেলেকে হাত-পা বেঁধে কুমিরের মুখে ফেলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখে যায় তারা। পরে অভিযান চালিয়ে ওই জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
উদ্ধার হওয়া জেলে মজিবর গাজী (৫০) জানান, দস্যুরা তাকে নৌকায় বেঁধে রেখে যাওয়ার সময় ভয়াবহ হুমকি দেয়। তিনি বলেন, ওরা বলছিল কপাল ভালো থাকলে বাঁচবি, না হলে কুমিরের পেটে যাবি।
তিনি আরও জানান, কোস্ট গার্ডের নৌকার শব্দ ও সার্চলাইটের আলো দেখে দস্যুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পালানোর তাড়াহুড়োয় তাকে সঙ্গে নিতে না পেরে হাত-পা বেঁধে নৌকায় ফেলে রেখে যায়।
মজিবর বলেন, তাকে এমন একটি স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল, যা কুমিরের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত। সেখানে সামান্য নড়াচড়া করলেই নৌকা উল্টে গিয়ে কুমিরের মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে খুলনার কয়রা থানার খড়কুড়িয়া খালে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, গুলি বিনিময়ের প্রয়োজন হয়নি। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ‘জোনাব বাহিনী’র দস্যুরা জিম্মিকে ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়।
পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মজিবর গাজীকে জীবিত উদ্ধার করেন।
বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করতে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে দস্যুদের এমন পৈশাচিক আচরণে সুন্দরবন এলাকায় জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ
সুন্দরবনে ডাকাত জোনাব বাহিনীর হাত থেকে জেলে উদ্ধার
এই বিভাগের আরো খবর
হেড অব ডিজিটাল : রিয়াজুল মওলা রিজু
ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ : শাহ আলম সরকার
মোবাইল : ০১৯৫৪-৬৮০০৮১
ইমেইল: info.banglavoicebd@gmail.com
© 2025 banglavoice.net. Designed by Kolpotoru IT.


















