মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রেম, গোপন বিয়ে ও যৌতুকের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আসমা আক্তার (২৯) নামে এক যুবতী সেনাবাহিনীর এক সদস্যের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করে অনশন করছেন।
আসমা চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম (২২) ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের শাহ আলীর ছেলে এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-তে সৈনিক পদে কর্মরত।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় তাদের। একাধিকবার দেখা-সাক্ষাতের পর আসমার দাবি, তারা গোপনে বিয়ে করেন। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জাহাঙ্গীর বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং আসমাকে ঘরে তুলতে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
নিরুপায় হয়ে আসমা গত ২২ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরের বাড়িতে যান। প্রথমে তাকে থাকার অনুমতি দেওয়া হলেও তিন দিন পর পরিবারের সদস্যরা মারধর করে বের করে দেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
চিকিৎসা শেষে ৩ মার্চ আসমা ভূরুঙ্গামারী থানা-য় নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরের বাবা শাহ আলী ও মা জাহানারা বেগমকে আটক করে এবং ৪ মার্চ তাদের কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আসমা অভিযোগ করেছেন, “স্বামীর স্বীকৃতি চাইতে এসেছি। আমাকে মারধর করা হয়েছে, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, মোবাইলের ছবি-ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “মামলার প্রেক্ষিতে দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সেনাসদস্য এখনো কর্মরত থাকায় তাকে আটক করা যায়নি। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।


















