সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে ঢুকে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৩ মার্চ) বেলা একটার দিকে উপজেলা পরিষদসংলগ্ন প্রেসক্লাব ভবনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় যুবদলের এক নেতাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
হামলার শিকার সামিউল মনির দৈনিক সমকাল পত্রিকার শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। আটক দুজন হলেন-শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলু রহমান ও বিএনপির সমর্থক আবদুর রহিম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলামসহ প্রায় ২৫–৩০ জন নেতা-কর্মী প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। মারধর করতে করতে তাকে ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়।
খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, সামিউল মনিরের মাথার বাঁ পাশে শক্ত বস্তু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন দৈনিক সমকালে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামিউল মনির বিভিন্নভাবে হুমকি পাচ্ছিলেন।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম দাবি করেন, আগের দিন এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন চলছিল। এ সময় সামিউল মনির তাদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে উত্তেজিত জনতা তার ওপর হামলা চালায়।

















