চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছান তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন। পরে তিনি আহতদের বর্তমান অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত অবহিত করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একই পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন, সাতজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। একজন রোগী ভেন্টিলেশনে আছেন। আমি তাদের দেখে এসেছি, ভর্তি রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে কুমিল্লা থেকে সকালে একই পরিবারের চারজন এসেছে তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা এখানে চিকিৎসকদের বলেছি তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।
অন্যদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাস লিকেস থেকে সারা বছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের হালিশহরে গতকাল একটি ঘটনা ঘটেছে এবং আজকে সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিল্প মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় এই তিনটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই। যাতে করে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায়। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে তিন মন্ত্রণালয় বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব কীভাবে এই দুর্ঘটনাকে কমিয়ে আনা যায়।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক শিশুসহ নারীরা আহত হয়েছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সব ধরনের সাপোর্ট দেওয়া হবে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, আজকেও সেহরির পর শিশু ও বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন দগ্ধ হয়ে এখানে এসেছেন। এই ধরনের ঘটনা আমরা প্রায়ই পাই। তবে আমাদের এখানে তাঁদের চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্য ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা থাকায় আমরা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আমাদের আগেই বিষয়টি জানানো হয়। আমরা সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। আমাদের চিকিৎসকরা বিষয়টি জানতেন এবং আমাদের অতিরিক্ত জনবল ডিপ্লয় করা ছিল। চট্টগ্রাম থেকে আনার পথে একজন নারী এখানে মারা যান। অনেকের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে আইসিইউ এইচডিইউতে চিকিৎসা চলছে। আটজনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


















