আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি–চৌহালী) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। যমুনা বিধৌত ও তাঁত শিল্পে সমৃদ্ধ এই আসনটি ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত।
এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ৬টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে জয়-পরাজয়ের হিসাবের পাশাপাশি এবারের নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোটের পরিবেশ নিয়ে এক ধরনের শঙ্কাও বিরাজ করছে।
ভোটারদের এই শঙ্কার পেছনে রয়েছে গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট এনায়েতপুর থানায় সংঘটিত অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটপাটের ঘটনা। ওই ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কিছু শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী।
১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাজী মো. আলী আলম বলেন, “আমার দীর্ঘ ৪৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার স্থান করে নিয়েছি। দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবেন, ইনশাআল্লাহ।”
অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন, “আমি যতটুকু আশা করেছি, তার চেয়ে অনেক বেশি জনগণের সাড়া পাচ্ছি। বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।” তবে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন বানচালের নানা ষড়যন্ত্র চলছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উচিত ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করা।” নির্বাচনে জয়ী হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের পাশাপাশি এনায়েতপুরকে উপজেলা হিসেবে রূপান্তর, তাঁত শিল্প এলাকায় গ্যাস সংযোগ এবং বেলকুচি–চৌহালী নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ ও প্রতীক্ষা—কে পাবে শেষ হাসি, তা জানতে তাকিয়ে রয়েছে পুরো এলাকা।


















