যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জে। দুই লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী নাজমা বেগম (৪০)।
ভুক্তভোগী নাজমা বেগম জানান, তার পিতা মৃত সুলতান শেখ। তিনি মান্দারতলা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী শাহিন শেখ (পিতা: নবা শেখ) গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম হরিঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।
নাজমা বেগমের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী শাহিন শেখ তার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে একাধিকবার মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দুই লাখ টাকা না দিলে আরও মারধর করবো—এমন হুমকি নিয়মিত দিত।
নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় জীবন রক্ষার তাগিদে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরের নবীনবাগ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান। সেখানেও তিনি ও তার শিশু সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
নাজমা বেগম আরও জানান, তার দুই বছর বয়সী এক শিশু সন্তান রয়েছে—আলামিন শেখ। সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তায় তিনি গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী ও তার শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল বলছে, যৌতুকের মতো ঘৃণ্য সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়।


















