সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামে পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট আউটলেটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে যুবদল নেতা নাহিদ আহমেদ (২৭) ও তার বাবা সইফুর রহমান (৬৫) গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বীরগাঁও গ্রামে নাহিদ আহমেদের মালিকানাধীন পুকুর শুকিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, নাহিদ আহমেদ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনতে বাড়িতে গেলে ফারুক মিয়ার ছেলে অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক মাছ ধরা শুরু করেন। এতে বাধা দিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, দুপুরের ঘটনার জের ধরে ওইদিন সন্ধ্যায় জাহিন আহমদের নেতৃত্বে ১৪-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বীরগাঁও বাজারস্থ ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট শাখায় অতর্কিত হামলা চালায়।
নাহিদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ব্যাংকে থাকা দুস্থ ও বয়স্ক ভাতার টাকা এবং বিকাশ-ফ্লেক্সিলোডের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ছিনতাই করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত নাহিদ আহমেদের পরিবারের দাবি, ঘটনার রেশ ধরে গত ৩০ জানুয়ারি রাতে আবারও তাদের বাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ প্রায় চার ভরি স্বর্ণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল লুট করা হয়। বর্তমানে পুরুষশূন্য পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুহেল মিয়া: তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ফারুক মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অপর পক্ষের আহত জুবায়ের মেম্বার জানান, তাদের পক্ষেরও চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ অলিউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “এ ঘটনায় এক পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, অন্য পক্ষও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


















