টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের সময় জামায়াত নেতা জনতার তোপের মুখে পড়েছেন। এমন একটি সংবাদ সম্প্রতি বাংলা ভয়েস, ডিবিসি নিউজ, সময় টিভি ও দেশ টিভিসহ বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যাদের টাকা প্রদর্শন করতে দেখা গেছে, তারা জামায়াত নয় বরং বিএনপির নেতাকর্মী।
বাংলা ভয়েস ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভূঞাপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াত নেতা কাজী নূরুল ইসলাম ভোটারদের এক হাজার টাকার নোট দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছিলেন। ১৯ সেকেন্ডের একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ৩ জন ব্যক্তি এক হাজার ও পাঁচশো টাকার নোট উঁচিয়ে “টাকা দিয়েছে” বলে চিৎকার করছেন।
বাংলা ভয়েস-এর অনুসন্ধানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত:
- টাকা প্রদর্শনকারী: সাদা শার্ট পরিহিত যে ব্যক্তি ১০০০ টাকার নোট দেখাচ্ছিলেন, তার নাম বৈ খাঁ। তিনি স্থানীয় একজন বিএনপি কর্মী।
- অন্যান্য ব্যক্তি: মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ৫০০ টাকার নোট দেখানো ব্যক্তিটির নাম ইসমাইল, তিনিও বিএনপি সমর্থক। এছাড়া ভিডিওতে থাকা শামীম নামের যুবকটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি।
- টাকা গ্রহণকারী: শামীম নামের ওই যুবক যার হাতে টাকা গুঁজে দিচ্ছিলেন, তিনি হলেন নূরুল ইসলাম। স্থানীয়দের মতে, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।
ঘটনার সময়কার প্রায় সাড়ে ৪ মিনিটের একটি দীর্ঘ ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার সকালে অর্জুনা ইউনিয়নের জগতপুরা গ্রামে জামায়াত নেতাকর্মীরা গণসংযোগে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেন। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। জামায়াত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খাঁ দাবি করেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোক নিয়ে ভোট চাইতে আসায় সাধারণ মানুষ বাধা দিয়েছে। টাকা বিতরণের বিষয়ে তিনি নিজে কিছু দেখেননি বলে স্বীকার করেছেন।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাব্বির রহমান জানিয়েছেন, “জামায়াতের লোকজন টাকা বিলাননি। বিএনপি সমর্থকরা নিজেরা টাকা বের করে ভিডিও করেছে।” তিনি আরও জানান, জামায়াতের প্রচারণার সময় তাদের হ্যান্ডমাইক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাহবুব হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য জুডিশিয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















