ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরাঞ্চলের তিন গ্রামে গত তিন মাসে শতাধিক সেচ মোটর চুরি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগী কৃষকরা।
সরেজমিনে আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে নান্দাইলের চর বেতাগৈর গ্রামে গেলে সেখানকার বাসিন্দারা জানান, গত এক মাসে ওই গ্রামের শাহজাহান, সিদ্দিক হোসেন, শিপন মিয়াসহ প্রায় ১৫ জন কৃষকের সেচ মোটর চুরি হয়েছে। বীর কামটখালী গ্রামের রিটন মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার জানান, তার স্বামী সন্ধ্যা বেলায় মোটর চালু করে পাশের বাজারে চা খেতে যান।
কিছুক্ষণ পরে এসে দেখেন মোটরটি নেই। এখন নতুন একটি মোটর কিনে সেচ দিচ্ছেন। তবে পুনরায় চুরি হতে পারে- এই ভয়ে সন্ধ্যায় সেটি খুলে বাড়িতে এনে রাখেন।
চরকোমরভাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. খুকি আক্তার বলেন, ‘যেবায় সেচের মোটর চুরি অইতাছে এতে তো দেহি না খায়া থাহন লাগবো।
এইবার কিবায় যে ধান চাষ করবাম তা মাথায় ধরে না।’
বাসিন্দারা আরো জানান, চর বেতাগৈর ইউনিয়নের কেবল চর কামটখালী গ্রাম থেকেই চুরি হয়েছে অন্তত ৫০টি সেচ মোটর। কোথাও মোটর চুরির পাশাপাশি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগও পাওয়া গেছে। তারা জানান, অনেক কৃষক টাকার অভাবে নতুন মোটর কিনতে পারছেন না।
ফলে ওই এলাকার কয়েক শ একর জমিতে এবার বোরো ধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো কৃষক মোটর কিনে পানি সেচ চালু করলেও পুনরায় চুরির ভয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রহমান জানান, আট দিন আগে তাঁর একটি সেচ মোটর চুরি হয়েছে। চর কোমরভাঙ্গা গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, গত এক মাসে কৃষক আল-আমিন শেখ, খোকন শিকদার, হবি শিকদার, ফজলুল শিকদারসহ অন্তত ৩০ জনের মোটর চুরি হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম মোটর চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চুরি হলেও চোর ধরা পড়ছে না।
তাই চুরির বিচার করা যাচ্ছে না। সন্দেহজনক কাউকে চোর সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়া যায় না। তবে তিনি কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিন জানান, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।


















