যশোরের শার্শা-১ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত দলটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল ইসলাম তৃপ্তির মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে সমবেত হয়েছে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে শার্শা বল্ডফিল্ড মাঠে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নারী-পুরুষ বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। এসমায় তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রিয় নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসজল চোখে প্রিয় নেতা তৃপ্তিকে জড়িয়ে ধরে আবেগে ভেঙে পড়েন। পরে নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি (তৃপ্তি) মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার জন্য কর্মিদের নির্দেশনা দেন।
উল্লেখ্য: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের শার্শা-১ আসনটি গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মফিকুল হাসান তৃপ্তির নাম ঘোষণা করেন। প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রায় দেড় মাস ধরে তৃপ্তি শার্শা উপজেলার প্রতিটা গ্রামে গ্রামে ধানের শীষের পক্ষে উঠান বৈঠকে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও মিডিয়া সেলেও তার প্রচারণার ছবি খবর নিয়মিত প্রকাশ হতো। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়েছিলো। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মণে করতেন তিনিই হবেন ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী।
তবে গত ২৪ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন হয়। মফিকুল হাসান তৃপ্তির পরিবর্তে আসনটিতে মনোনয়ন দেওয়া হয় শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে। আসনটিতে মোট ৪ জন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। অপর দুইজন হলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিনে মফিকুল হাসান তৃপ্তিসহ অন্যরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এছাড়াও আসনটিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১১ জন ব্যক্তি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ।

















