যশোরের শার্শায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কে সিসি ঢালাইয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের বাধার মুখে একদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পরদিন একই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে বসতপুর বাজার এলাকায় ফের সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ উঠেছে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করেই নির্মাণকাজ করছেন তারা।
জানা গেছে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সাতমাইল টু গোগা সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। অথচ কোনো তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছাড়াই মাত্র একদিনের ব্যবধানে শুক্রবার সকাল থেকে একই সামগ্রী দিয়ে পুনরায় ঢালাই কাজ শুরু হয়। এতে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) যশোর থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় সিসি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ওই খবরে উল্লেখ করা হয়-পায়ের আঙুল অথবা হাত দিয়ে গুতো দিলেই ঢালাইয়ের রাস্তা খুঁড়ে যাচ্ছে। অভিযোগের পর শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল্লাহ ও বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শাহরিয়ার মাহামুদ রঞ্জু কাজ বন্ধের কথা জানালেও বাস্তবে একদিনের মধ্যেই ফের একই কাজ শুরু হয়।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সরেজমিনে বসতপুর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সড়কের সিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোনো ও ময়লাযুক্ত নিম্নমানের কালো পাথর, ইটের খোয়া ও বালি। নকশা অনুযায়ী সিমেন্টের পরিমাণ ও রডের মানও বজায় রাখা হয়নি। ফলে সদ্য নির্মিত সড়কটি অল্প সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজুসহ কয়েকজন জানান, অনিয়মের কারণে বৃহস্পতিবার সকালে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শুক্রবার সকাল থেকে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে একই সামগ্রী দিয়ে আবারও ঢালাই শুরু হয়। তবে’ স্থানীয়দের অভিযোগের তীর-শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাল্লাহর দিকে। তাদের প্রশ্ন-আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সময়ে যে অনিয়ম চলত এখন প্রশাসকের তত্ত্বাবধানেও যদি একই অনয়ম হয়, তবে পরিবর্তন কোথায়?
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তার আওতায় উপজেলার, ৮নং বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সাতমাইল টু গোগা ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বসতপুর স্কুল মোড় থেকে বাজারের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ মিটার সিসি ঢালাই রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। তবে শুরু থেকেই নির্ধারিত নকশা ও মানদণ্ড অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। সড়কটিতে নির্মাণকাজ করছেন ইডেন এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে আছেন আবু সাঈদ।
বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু উক্ত কাজে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে এমন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাল্লাহ বলেন, অভিযোগের পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে কাজ পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি জানান, রোববার অফিস সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন হবে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে নতুন করে কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।

















