মোবাশ্বের নেছারী,কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর পশুর হাট থেকে রসিদ ছাড়াই অবৈধ ভাবে চাঁদা তোলার অভিযোগে বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
আজ বুধবার (২৮ মে) ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার পর গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার মাহাবুব রহমান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং মো. আলমগীর কুড়িগ্রাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক।মঙ্গলবার যাত্রাপুর গরুর হাটে মাহাবুব ও আলমগীরের বিরুদ্ধে রসিদবিহীন চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ফেনীর মহিষ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন যাত্রাপুর হাটে টহলরত যৌথ বাহিনীকে অভিযোগ দিলে ওই দুজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেনীর ছাগলনাইয়া এলাকার মহিষ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন গতকাল যাত্রাপুর হাট থেকে ১৭টি মহিষ কেনেন। পরে অভিযুক্ত মাহাবুব ও আলমগীর তাঁকে গরু–মহিষ বিক্রির শেডে নিয়ে যান। প্রতিটি মহিষের জন্য ৫০০ টাকা হিসাবে ৮ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করেন।
এ সময় আনোয়ার চাঁদা নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে রসিদ চাইলে তাঁরা হাটের ইজারার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বিষয়টি হাটে দায়িত্বরত যৌথ বাহিনীর সদস্যদের জানান তিনি। পরে মাহাবুব ও আলমগীরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাত্রাপুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান বিএনপি নেতা মাহাবুবুর রহমান। ইজারায় অংশীদারত্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা ছিলেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের অফিস আদেশ ছাড়াই হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় শুরু করেন।
মহিষ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন আজকের কাগজকে জানান, মাহাবুব রহমান, আলমগীর ও তার সহযোগীরা ১৭টি মহিষের জন্য ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেয়। এসময় আমাকে রশিদ না দেওয়ায় আমি যৌথ বাহিনীকে জানিয়েছি। পরে থানায় মামলা দিয়েছি।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ বলেন,জোরপূর্বক অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।#


















