নিজস্ব সংবাদদাতা :
যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নধীন রুদ্রপুর গ্রামের প্রায় ৫০ টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত ১৫ দিন পানি বন্দি থাকলেও এটি নিষ্কাশনের কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করেননি কেউ। অসহায় এ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
মহল্লাবাসী প্রতিকার চেয়ে শনিবার (২৪ মে) কায়বা ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রুদ্রপুর গ্রামের আজানতলা পাড়ার পাকার মাথা হয়ে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত পাকা একটি সড়ক চলে গেছে। পাকার মাথা থেকে একটু সামনে গিয়ে ওই এলাকার মৃত গোপাল কামারের বাড়ি থেকে নজরুল ইসলাম ইমামের বাড়ি পর্যন্ত অপর একটি সড়ক চলে গেছে। যে সড়কটি প্রায় ৫০ টি পরিবারের পাঁকা রাস্তায় উঠার একমাত্র পথ।একটু বৃষ্টি হলে ওই পাঁকা রাস্তার উঠার মুখে গোপাল কামারে বাড়ির সামনের রাস্তাটি কিছু অংশ হাটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। যে পানি শুকাতে প্রায় ২ থেকে ৩ মাস লেগে যায়। দুপাশে নতুন ঘরবাড়ি তৈরি করায় ও রাস্তার দুপাশ উচু করে বেঁধে রাখার কারণে তাদের এই দুর্ভোগে পড়তে হয়। আর এতে বেশী সমস্যায় পড়েছেন স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা।
স্থানাীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান জানান, বিগত ৫০ বছর এই মহল্লায় বসবাস করছেন। কখনো এমন সমস্যাই পড়তে হয়নি তাদের। এখন নতুন করে ওই রাস্তার দুপাশে ঘরবাড়ি তৈরি হওয়ায় পানি বের হওয়ার সব পথ আটকে গেছে।একটু বৃষ্টি হলেই পথে হাটু সমান পানি জমে যায়। এসময় পাইপ বা কালভার্টের ব্যবস্থা করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
জায়েদা খাতুন নামে এক নারী জানান, একটু বৃষ্টি হলে রাস্তার পানি তাদের ঘরে ঢুকে পড়ে। এ সময় রান্নার চুলায়ও পানি ঢুকে যায়, তাই রান্না খাওয়া ও বন্ধের উপক্রম হয়। পানি পার হওয়ার ভয়ে ছেলে মেয়েরা স্কুলেও যেতে চাইনা। তাদের কোলে করে পাঁকা রাস্তায় উঠিয়ে দিয়ে আসতে হয়।পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে তাদের ছোট ছেলে মেয়েরা স্যাতসেতে পরিবেশের কারণে রোগাক্রান্ত হচ্ছেন বলে তিনি জানান।
রুদ্রপুর গ্রামের বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা জানান, রাস্তার পাশ দিয়ে পাইপ বা কালভার্টের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা ছাড়া এ পানি বের করার কোন উপয় নেই। দিনদিন জনসংখ্যা বাড়ার কারণে নিচু জমি উচু করে নতুন নতুন ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে। ফলে রাস্তা হয়ে যাচ্ছে নিচু। এ মহল্লার রাস্তাটিও একই কারণে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
৭ নং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, উক্ত বিষয়ে রুদ্রপুর গ্রামের ভুক্তভোগীরা পরিষদে এসে জানিয়েছেন। তিনি ওই রাস্তাটি পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবেন।

















