মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে থৈই থৈই করছে পানি।
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকা এলাকার ধান, বাদাম, কাউন তিলসহ ডুবে গেছে ফসলি জমি। এছাড়া জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস, পিটিআই চত্বর ও উলিপুর পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তা। ফলে এসব এলাকায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিস গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছেন।
এদিকে কুড়িগ্রাম ও উলিপুর পৌরসভায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। কুড়িগ্রাম জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস চত্বর, পিটিআই চত্বর, জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে জমে আছে হাঁটু পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কার্যালয় গুলিতে সেবা নিতে আসা মানুষজন।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জোরগাছ বাজার এলাকার কৃষক মো. শাহজাহান আলী জানান, অবিরাম বর্ষণ ও উজানী ঢলে ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়েই চলছে। আমার তিল ও বাদাম খেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছি।
রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার ঘরিয়াল ডাঙ্গা, রতিরাম, ডাঙ্গড়া গাবুরহালান, ঠুটাপাইকর, দলদলিয়া গোড়াইপিয়ার, থেতরাই ও নাগরাকুড়া এলাকার তিস্তা পাড়ের মানুষজন ডুবে যাওয়া বাদাম খেত নিয়ে দারুণ দুশ্চিন্তায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। এসব এলাকার বাদাম ও ধান খেত বেশীরভাগ ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান জানান, টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর অববাহিকার ১৩০ হেক্টর জমির বাদাম ও তিলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তিল ও বাদাম ক্ষেতের।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তবে পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা আপাতত নেই।


















