মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরা আশাশুনি থানার ওসি নোমান হোসেন এর বিরুদ্ধে “পুলিশ ফাঁড়ির” জায়গা গোপনে লিজ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
🔴 ওসি কর্তৃক গোপনে ফাঁড়ির জমি লিজ
🔴 সরকারি টাকা জমা না দিয়ে পকেটস্থ
🔴 আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা
🔴 ভারী হচ্ছে নোমানের অপরাধের পাল্লা
🔴 যোগদানের পর থেকে দূর্নীতি চরমে
🔴 নোমানের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন
🔴 নিজের অপকর্ম ঢাকতে নানা ফন্দি
🔴 ওসি নোমান এর দায়ভার নেবে কে
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আশাশুনি থানার আওতাধীন প্রতাপনগর মৌজায় হাটখোলা আক্কাস মোড় সংলগ্ন এলাকায় ১ একর ১৮ শতক জায়গার মধ্যে একটি পুলিশ ফাঁড়ি আছে। পরবর্তীতে ওই ফাঁড়ির কোন কার্যক্রম না থাকায় ফাঁড়ির ১ একর ১৮ শতক জমি সরকারি প্রক্রিয়া মেনে পরবর্তীতে আশাশুনি থানার তৎকালীন সময় দায়িত্বরত ওসিরা লিজ প্রদান করতেন।
লিজ গ্রহীতাদের মাধ্যমে লিজের প্রাপ্ত টাকা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা করাতেন। গত ০৬/০১/২৫ তারিখ ওসি মোঃ নোমান হোসেন আশাশুনি থানায় যোগদান করার পর থেকে পুলিশ ফাঁড়ির জমি লিজ দিয়ে ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি নিজেই পকেটস্থ করেন।
বলাই বাহুল্য ওসি নোমান যোগদানের পর থেকে বেড়েছে নানাবিধ অপকর্ম আর দূর্নীতি। জানা গেছে, প্রতাপনগর মৌজার ১ নং খতিয়ানের, জে এল, নং ১৩৯ এর ১৪, ১৫ ৮,৯ দাগে ১ একর ১৮ শতক জমির মালিক গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আশাশুনি থানা, তথা বাংলাদেশ পুলিশ।
আশাশুনি প্রতাপনগর পুলিশ ফাঁড়ির ওই সম্পত্তির মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান ২ বিঘা ৬ শতক জমি ওসি নোমান হোসেন এর নিকট থেকে বাৎসরিক ১০ হাজার টাকা হারে লিজ নিয়েছেন। ওই জমি জলাশয় হওয়ায় লিজ গ্রহীতা আজিজুর রহমান মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছেন।
এছাড়া কাজল ১০ কাঠা ও করিমন ১০ কাঠা যথাক্রমে ১ বিঘা জমিতে বসত ভিটা হিসেবে তারা বসবাস করছেন। যদিও কাজলের মায়ের কল্যানপুরে সম্পত্তি আছে এবং করিমনের গুচ্ছ গ্রামে ঘর আছে। ঘর ও জায়গা থাকা সত্ত্বেও তারা ফাঁড়ির ১ বিঘা জমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছে।
বাকি জমির মধ্যে রাজু ও ইমন মৎস্য ঘের করছে। নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি লিজ প্রদানের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি/নোটিশ অথবা মাইকিং করবে। এর পর প্রকাশ্যে ডাক অথবা আবেদনের মাধ্যমে লিজ গ্রহীতা স্থানীয় সোনালি ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে উক্ত টাকা জমা করবেন।
অথচ ওসি নোমান হোসেন প্রতাপনগর পুলিশ ফাঁড়ির জমি নিয়ম না মেনে গোপনে লিজ দিয়ে প্রাপ্ত টাকা কোষাগারে জমা না রেখে পকেটস্থ করে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।
এর আগে ওসি নোমান হোসেন এর বিরুদ্ধে একের পর এক সীমাহীন দূর্নীতি এবং অপকর্ম বিভিন্ন প্রিন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওসি নোমান হোসেনের নানাবিধ অপরাধ আর অপকর্মের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। পুলিশ জনগণের বন্ধু তথা আইনের রক্ষক। আর সেই রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় ফাটল ধরবেনা এ কথা অস্বীকার করার নয়।
দিন যতো গড়িয়ে যাচ্ছে ওসি নোমান হোসেন এর অপরাধের পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে এ যেন দেখার কেউ নেই। এদিকে আশাশুনি থানার ওসি নোমান হোসেন কর্তৃক বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে থানায় আটকে রেখে উৎকোচ বানিজ্য, হত্যা মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়, মাসিক মাসোহারা আদায়, হত্যা মামলার আসামিকে গারদে না রেখে নিজ কক্ষে আপ্যায়ন, খোশগল্প সহ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন অপ-কৌশল সহ নানা পন্থা অবলম্বন করেছেন।
এর প্রেক্ষিতে ওসি নোমান হোসেন কৌশলে ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদেরকে চাপে রাখতে বিভিন্ন মহলে হুমকি প্রদান করছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
এ বিষয় আশাশুনি থানার ওসি নোমান হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, প্রতাপনগর পুলিশ ফাঁড়ির জমি লিজ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। একপর্যায় তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ বিষয় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, প্রতাপনগর ফাঁড়ির জায়গা বাংলাদেশ পুলিশের। অতএব ওই সম্পত্তি লিজ দিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে আত্মসাৎ করার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, আমি একটু ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো।


















