বাংলা ভয়েস ডেস্ক :
পঞ্চগড়ে দিনে কাঠফাটা রোদের সঙ্গে তীব্র গরম, আর রাতে শীতের অনুভূতি। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর হালকা কুয়াশার সঙ্গে শুরু হয় শীতের আমেজ। ভোরের আকাশে দেখা যায় কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ। স্থানীয়রা রাতে হালকা কাঁথা জড়িয়ে ঘুমান।
চৈত্রের মাঝামাঝিতে এমন আবহাওয়া বিচিত্র হলেও হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের জন্য স্বাভাবিক বলছেন স্থানীয়রা। আবহাওয়া অফিস বলছে, দীর্ঘদিন বৃষ্টি নেই। সেই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ও জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমে যাওয়া ফলে এমন আবহাওয়া।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের জেলা পঞ্চগড় শীতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে শীত মৌসুমে সারা দেশের তুলনায় বেশি শীত অনুভূত হয়। অন্য এলাকার তুলনায় আগেভাগে শীত শুরু হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এখানে প্রতিবছর ফেব্রয়ারির পর থেকে তীব্র গরম শুরু হয়। বসন্তের মাঝামাঝিতে বৃষ্টি হলে বর্ষার আগে পর্যন্ত এবং গ্রীষ্মের শেষ দিকে দিনরাত শুরু হয় তীব্র গরম।
এবার বসন্তের শেষ এবং গ্রীষ্মের শুরুতেও অনুভূত হচ্ছে শীত। চৈত্রের মাঝামাঝি বর্তমান সময়ে তেঁতুলিয়াসহসহ পঞ্চগড়ের আশপাশের এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ১৬ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দিনে সকাল ৯টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে শীত অনুভূতির সঙ্গে ভোরের আকাশে ঘন কুয়াশাও দেখা যায়। কুয়াশার রেশ থাকে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক কুদরত এ খোদা বলেন, ‘পঞ্চগড়ে বছরের দুই থেকে তিন মাস বাদ দিলে বছরজুড়েই শীতের একটা আমেজ থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আমাদের এলাকায় বর্ষাকাল ছাড়া সব সময় রাতে কুয়াশার একটা ভাব থাকে। আমাদের জন্য এই আবহাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। এখানে গরমের সময়ও বৃষ্টি হলে শীত অনুভূত হয়। মোটামুটি সারা বছর কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাতে হয়। তবে এবার বেশ কিছু দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে না। দিনে প্রচণ্ড গরম থাকছে।’
জেলা শহরের মসজিদপাড়া মহল্লার সত্তোর্ধ্ব ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ফজরের নামাজের সময় প্রতিদিন কুয়াশা থাকে। রাতেও শীত লাগে। কাথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। দিনে আবার বেশ গরম। আমাদের পঞ্চগড়ের আবহাওয়াটাই আসলে অন্য এলাকার চেয়ে আলাদা। এখানে তীব্র গরমের সময়টুকু বাদ দিলে, বর্ষাসহ সারা বছরই ঠান্ডা আবহাওয়া থাকে। তবে এর আগে এই সময়ে এমন ঘনকুয়াশা খুব একটা দেখা যায়নি।
তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘আজ বুধবার সকাল ৯ টায় পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা বালি ও পাথর সমৃদ্ধ এলাকা। এখানে প্রতিদিন ভূগর্ভস্থ শত শত ট্রাট বালু এবং পাথর উত্তোলন ও পরিবহন করা হয়। সারাক্ষণ বাতাসে ধূলিকণা ও পাথরকণা জমে থাকে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন কোনো বুষ্টিপাত না হওয়ায় বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা জমে থাকার কারণে কুয়াশা বেশি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণেও কুয়াশার সঙ্গে শীতের অনুভূতির এই বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে।’
জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘পঞ্চগড়ে দিনে এখন প্রচণ্ড গরম থাকে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হচ্ছে। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


















