পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের আসামি করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসব নেতার নাম উঠে এসেছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তাদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর কিছু বিদ্রোহী সদস্য দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে রাজধানীর পিলখানায় বিদ্রোহ শুরু করে। তাদের গুলিতে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ঘটনায় পুরো দেশে গভীর শোক ও আতঙ্ক নেমে আসে।
বিস্ফোরক আইনে করা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন রয়েছে। বিচারক ড. মো. আলমগীর মামলাটির শুনানি করছেন।
সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি দুইজন সেনা কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।
এ পর্যন্ত মামলায় ১,৩৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বক্তব্যে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বর্তমানে আসামি ৮২২ জন। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে প্রথমে চকবাজার থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে সেগুলো নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার্জশিট দেয় সিআইডি। ২০১১ সালের ১০ আগস্ট হত্যা মামলায় চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।
২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত হত্যা মামলার রায় দেয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে
- ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে
- ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়
- ৪ জন খালাস পান
এ ছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৮৩ জন খালাস পান। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফয়সাল হোসাইন বলেন, তারা বিস্ফোরক আইনের মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চান। আদালত যেন দ্রুত রায় ঘোষণা করেন সেটাই তাদের প্রত্যাশা। তিনি জানান, এখনো কোনো আসামির জামিন হয়নি। পরবর্তী শুনানিতে আবারও জামিন আবেদন করা হবে।


















