প্রশ্নফাঁস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবিঃ
১. সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
২. সব চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন করতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন করতে হবে।
৩. স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে তাদের অধীনেই সব নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা করতে হবে; একই দিনে ও একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
৪. যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
৫. প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদান ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসঃ
এসব দাবির বিষয়ে আন্দোলনকারীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দেন। আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থী আবু তাহের বলেন,
“মহাপরিচালক আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য দ্রুত একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা বাতিল করা হতে পারে। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার ফল স্থগিত রাখা হতে পারে।
পরীক্ষার তথ্য ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগঃ
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার দুই দিন আগে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষায় আসা কয়েকটি প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। এ কারণে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।


















