দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ খাতে তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা জানিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা। আগামী সরকারের সামনে জ্বালানি-বিদ্যুতের ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মত দিয়েছেন তারা। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এসব মতামত তুলে ধরেন বক্তারা।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। প্রাথমিক জ্বালানি সংকটের কারণে প্রতি গ্রীষ্মেই লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ২০১৮ সালে বিদ্যুতের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা ছিল ১৫ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ নির্ভরতা আরও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিদ্যুতের চাহিদা উৎপাদন সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, সে সময় বেশ কিছু পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন ব্যবস্থার বাইরে চলে যাবে। এতে সামগ্রিক বিদ্যুৎ নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়বে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে স্থানীয় শিল্প খাত রপ্তানি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। ইউরোপীয় ক্রেতারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু সৌরবিদ্যুতের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জাম আমদানিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়, যা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু এ খাতে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। এখনই সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ না নিলে ২০২৯ সালের পর বিদ্যুৎ খাত আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ থেকে ১৪ টাকা হলেও বাংলাদেশে আমদানি নির্ভর জ্বালানি দিয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকার নিচে। এতে বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ বাড়ছে, পাশাপাশি নীতিগত স্থিতিশীলতা না থাকায় বেসরকারি বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা, গ্যাস উৎপাদন ঘাটতি এবং পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা এখন বড় হুমকির মুখে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


















