টাঙ্গাইলে অন্যায়-অনিয়ম, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং খাল-বিল-জলাধার দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে চারদিনব্যাপী গণঅনশন পালন করেছে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি টাঙ্গাইল জেলা।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অংশ নেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ (রাজ্য), সাজুসহ পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় সচেতন নাগরিকরা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি অনশনকারীদের পানি খাওয়ানোর মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অনশনকারীরা জানান, তাদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
দাবিসমূহ:
১. নিরালা মোড় সংলগ্ন শ্যামাপ্রসাদ খালসহ নদী-খাল-বিল দখলমুক্ত ও খননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং খাস খতিয়ানভুক্ত পুকুর উদ্ধার করে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
২. প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৩. ধর্মীয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ করা।
৪. নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
৫. টাঙ্গাইল-নাগরপুর সড়কের শামসুল হক সেতুর টোল আদায় বন্ধ করা।
৬. টাঙ্গাইল জেলাকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৭. চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন এবং ডাক্তার ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফি সরকারি ভাবে নির্ধারণ করা।
৮. ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হল সংস্কার করা।
৯. সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রাস্তার মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অপসারণ করা।
১০. যানজট নিরসনে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধ করা।
অনশনকারীরা বলেন, দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


















