গণমাধ্যমে চাঁদাবাজির তথ্য দেওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা বাজারের সেই রড়-সিমেন্ট ব্যবসায়ী কামাল হোসেনকে দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক মারপিট করেছে কথিত বিএনপির নেতা হজরত আলীসহ তার পোষ্য সন্ত্রাসীরা।এঘটনায় চরম আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছে ভিকটিমের পরিবার। পরিবারটি জানিয়েছেন হজরত আলীর পোষ্য সন্ত্রাসীদের ভয়ে থানায় মামলা পর্যন্ত করতে ভয় পাচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন এলাকায় ক্রাশ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে সাথে জড়িত হজরত আলীর সাঙ্গপাঙ্গরা।
জানা গেছে, গত (২৫ শে মার্চ) বুধবার সন্ধ্যায় কামাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবীতে ব্যাপক ভাংচুর, নগত টাকা লুটপাট করেন হজরত আলীসহ এক দল দুর্বৃত্তরা। এসময় কামাল হোসেনের পিতা মোমরেজ আলী ও কামালের ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে মারধরের শিকার হয়। এতে কামাল হোসেনের পিতা মোমরেজ আলী গুরুতর জখমের শিকার হন। এঘটনা পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে গোগা বাজারে গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনেই কামাল হোসেনেরকে কোদালের আছাড় দিয়ে দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে হজরত আলীর ১০/১২ জন পোষ্য সন্ত্রাসীরা। যে মারপিটের ভিডিও ইতি মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। গুরুতর আহত ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বর্তমানে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমাণ তার অবস্থা অসংখ্যজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হজরত আলী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, কিন্তু গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার তার কাল হয়েছে। এখনো প্রতিদিন তার বাসার সামনে সন্ত্রাসীরা সকাল বিকাল ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মহড়া দিচ্ছে। এতে তার পরিবার চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি দাবি করেন প্রথম দিন সন্ধ্যায় পুলিশের সামনেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, মারপিট, ও নগত টাকা লুটপাট করেন দুর্বৃত্তরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি কোন সহযোগিতা পাননি।
অভিযুক্ত হজরত আলী বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কামাল হোসেন অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে সহযোগিতা করেছে, ওই মামলায় আমার প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা চাইতে গিয়ে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এবিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, উক্ত বিষয়ে কোন ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি, যদি অভিযোগ করেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য:- কথিত বিএনপির নেতা হজরত আলীর সঙ্গে পূর্ব থেকেই কৃষি জমিতে সেচ (পানি দেওয়া) নিয়ে কামাল হোসেনের বিরোধ চলছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্রে করে হজরত আলী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রকাশ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে ওই টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেয়। চাঁদার টাকা দিতে অশ্বিকৃতি জানালে কামাল হোসেনের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কামালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চালানো হয় হামলা, ভাঙচুর, নগত টাকা লুট। দফায় দফায় চালানো হয় তার এবং তার পরিবারের উপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন।


















