মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গোয়ালঘরকে আড়াল বানিয়ে চলছিল গোপন পেট্রোল কারবার—এমন অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উদ্ধার করা হয়েছে ড্রামভর্তি পেট্রোল, জরিমানা করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রাফিউর রহমান।
অভিযানে জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু জাহানের বাড়ির গোয়ালঘরে ড্রামে পেট্রোল মজুত করে অধিক দামে বিক্রি করছিলেন তার ছেলে এরশাদুল হক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোয়ালঘর থেকে পেট্রোলভর্তি ড্রাম ও বিক্রির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, আবাসিক এলাকায় এভাবে পেট্রোল মজুত রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও আইনবিরোধী। পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী অভিযুক্ত পরিবারের ওপর ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় এরশাদুল হক ঘটনাস্থলে না থাকায় তার ভাই হারুন অর রশিদ জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে হারুন অর রশিদ বলেন, “মোটরসাইকেলের ব্যবহারের জন্য কিছু পেট্রোল রাখা হয়েছিল। শত্রুতাবশত বিষয়টি বড় করে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।” তবে ড্রামে করে পেট্রোল সংরক্ষণের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান বলেন, “বসতবাড়ির গোয়ালঘরে পেট্রোল মজুত করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জরিমানা ও জব্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।”
উল্লেখ জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মজুত ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ বাড়ছে। প্রশাসনের দাবি, এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনোভাবেই অনিয়মকে ছাড় দেওয়া হবে না


















